২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১

কাশ্মীরি বন্দিদের সাথে ভারতের অমানবিক আচরণ

গত পাঁচ আগস্ট। আগ্রাসী ভারত কেড়ে নেয় কাশ্মীরের স্বায়ত্ত-শাসনাধিকার। গ্রেফতার করে স্বাধীনতাকামী, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষকে। অনেককে স্থানান্তর করা হয় ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের কারাগারে। গত শুক্রবার ভারতের আগ্রায় অবস্থিত এমনই একটি কারাগার পরিদর্শন করে বিবিসি হিন্দি’র সংবাদদাতা ভিনিত খারে সেখানকার নাজুক অবস্থার কথা জানিয়েছেন বিবিসিকে। আগ্রার আবহাওয়া মোটেও কাশ্মীরিদের জন্য উপযোগী নয়। কাশ্মীরে যেখানে সেপ্টেম্বর মাসের তাপমাত্রা ১৮ সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি থাকে, সেখানে আগ্রায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি স্পর্শ করেছে। ৮০ জনেরও বেশি বন্দি রয়েছেন আগ্রার এই কারাগারে। কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারটি ভীষণ গরম আর দুর্গন্ধে ভরা। টয়লেটের দুর্গন্ধ ওয়েটিং হল থেকেও পাওয়া যাচ্ছিল। যেখানে পরিবারগুলো বসে অপেক্ষা করছিল তাদের স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য। দুর্গন্ধের কারণে তাদের বেশিক্ষণ ধরে অপেক্ষা করাও হয়ে পড়েছিল বেশ কঠিন। ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করার জন্য কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকেও ৩০ কিলোমিটার দূরে পুলওয়ামা শহর থেকে আসা এক ব্যক্তি জানান, ৪ আগস্ট তার ভাইকে ভারতীয় বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কী কারণে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিছুই জানানো হয়নি তাদের। বারবার নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে যোগাযাগ করার পর তাকে জানানো হয় যে, তার ভাইকে শ্রীনগরেই রাখা হয়েছে। কিন্তু এটা ছিল স্রেফ সান্ত্বনা, বা বলা যেতে পারে প্রতারণা। অবশেষে তিনি জানতে পারেন তার ভাইকে ভারতের আগ্রায় অবস্থিত জঘন্য এ কারাগারে রাখা হয়েছে। অশীতিপর আবদুল গনির অবস্থাও অনুরূপ। তার ছেলে এবং ভাগ্নেকে তুলে নিয়ে যায় ভারতীয় বাহিনী। কাশ্মীরের কুলগাম শহর থেকে আগ্রা পর্যন্ত ট্রেন এবং বাসে করে এসেছেন তিনি। তাকে জানানো হয়েছিল যে, এখানে ওই দু’জনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখানে আসার পর জানতে পারেন যে, ভেরিফিকেশন লেটার’ ছাড়া দেখা করা যাবে না। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রায় ১০,০০০ রুপি খরচ হয়ে গেছে এই অশীতিপর দরিদ্র বৃদ্ধার। এখন আবার কাশ্মীরে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই তার। শুধুমাত্র মঙ্গল ও শুক্রবার সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়। আর তা-ও খুব অল্প সময়ের জন্য।