২৩, মার্চ, ২০১৯, শনিবার | | ১৬ রজব ১৪৪০

অনশন ভাঙাতে ব্যর্থ প্রক্টর-প্রভোস্ট, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রীদের

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৯

অনশন ভাঙাতে ব্যর্থ প্রক্টর-প্রভোস্ট, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রীদের

ভোট কারচুপির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন, হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শর্ত সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের অনশন স্থগিত করেছে।

তাদের দাবি পূরণের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। এর সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে আবারও আমরণ অনশনে বসবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এর আগে অনশনরত ছাত্রীদের সাথে কথা বলেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। বৃহস্পতিবার রাতে হলের সামনে গিয়ে ছাত্রীদের তিনি বলেন, ‘তোমাদের দাবি নিয়ে আমরা বসবো। তোমরা অনশন ভেঙে হলে ফিরে যাও।’

অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা আমাদের পরিবারের সমস্যা। আমরা তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।’

তবে চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবিতে এসময় ছাত্রীরা স্লোগান দেন এবং ‘ভুয়া, ভুয়া’ আওয়াজ তোলেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে প্রক্টরসহ অন্যরা চলে যান। পরে প্রভোস্টের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এসময় প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রীরা। এছাড়া ২৪ ঘন্টার মধ্যে (শুক্রবার) মধ্যে তার পদত্যাগ দাবি করে।

এর আগে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, ‘হলে আসার পর তোমাদের সাথে আমার পরিচয়। তোমাদের অনেক ভালোবাসা দিয়েছি, তোমাদের সাথে আছি। তোমরা অনশন বন্ধ করে হলে ফিরে যাও।’

পরে অনশনকারী ভিপি প্রার্থী মৌসুমী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পাঁচজন অনশনকারীর মধ্যে দুজন অসুস্থ হওয়ায় ২৪ ঘন্টার জন্য অনশন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি। কালকের মধ্যে প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে। অবশ্যই নতুন প্রভোস্টের অধীন হল সংসদের নির্বাচন দিতে হবে।’

প্রভোস্ট এবং প্রক্টরের সঙ্গে ডাকসুর নব নির্বাচিত সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রীদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে- মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রথমে পাঁচ ছাত্রী এ কর্মসূচি শুরু করলেও পরে তাদের সাথে আরও অনেক ছাত্রী যোগ দেন। অনশনে বসা ছাত্রীদের মধ্যে চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী ছিলেন।