১৮, জুন, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

এক মাহনূরের স্বপ্নঃ শূন্য থেকে কোটি টাকার সম্পদ আর স্বপ্ন রক্ষার ইজারা

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৯

এক মাহনূরের স্বপ্নঃ শূন্য থেকে কোটি টাকার সম্পদ আর স্বপ্ন রক্ষার ইজারা

স্বপ্ন যখন চাকরি করবো না, চাকরি দিব। সেই স্বপ্নের খোঁজে যখন কেউ নেমে পড়ে তখন আর তাকে দমিয়ে রাখার সাধ্য কার? আর ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্টড়িপ্রিনিউরশীপ তেমনি পেয়েছে একজন স্বপ্নাতুর ব্যবসায়ীর খোঁজ! “মাহনূর ই রহমান”। গ্রামের বাড়ি, গোপালগঞ্জ। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর চিন্তা করতে থাকেন কোথায় ভর্তি হবেন, কোথায় ঠাই হবে আর কোন বিষয়ে পড়বেন। যা তার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে। যেহেতু স্বপ্ন ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়া আর দেশকে নিয়ে যাওয়া ডিজাইনিং এর ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে, যেই ভাবনা সেই কাজ, বেছে নিলেন ফ্যাশন ডিজাইনিং, ভর্তি হলেন বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BIFT) তে।

যেহেতু শুরু থেকেই ইচ্ছা উদ্যোক্তা হওয়া, তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খুঁজতে থাকেন কিভাবে শুরু হতে পারে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের যাত্রা। ২য় বর্ষ থাকাকালীন ঘরোয়া পরিবেশে শুরু করেন ডিজাইনিং এর কাজ। ক্রেতা ছিল পরিচিত হাতেগোনা কয়েকজন। তিনি বিশ্বাস করেন বিনিয়োগে নয়, প্রবল ইচ্ছা ও কর্মদক্ষতায় সাফল্য আসে ব্যবসায়।

তার কিছুদিন পরেই শিক্ষা বিনিময় প্রকল্পের আওতাধীন বৃত্তিপ্রাপ্ত হিসেবে সু্যোগ পান ভারতের দিল্লির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (NIFT) তে ডিজাইনিং এর ওপর শিক্ষা নেওয়ার। সেখানে থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে দেখেন ভারতের স্থানীয় সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ডিজাইনিং এর ওপর। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই একের পর এক ডিজাইন।

ভারত থেকে দেশে ফিরেই বাংলাদেশ থেকে ফাইনালিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান চীনের বেইজিং ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BIFT) তে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউথ ডিজাইনার এক্সিবিশন (IYDE-2015) এ।
তারপর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া SDC ইন্টারন্যাশনাল ডিজাইন কম্পিটিশনেও আবার বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ফাইনালিস্ট হিসেবে সুযোগ পান।

এছাড়া তার ডিজাইন এর পোশাক সমাদর পায় কলকাতা ও মুম্বাইয়ের এলিট ফ্যাশনিস্টায়। সেখানের ইভেন্ট & মিডিয়া প্রডাকশনেও কাজ করেছেন কিছুদিন। প্রথমদিকে ফেব্রিক টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট এ চাকুরি শুরু করেন ব্রিটিশ ব্যান্ড (মার্কস & স্পেন্সার) M&S এ।

কিন্তু সেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন কি আর পূরণ হল? আসলে এতদিনে তার সেই শুরু করা উদ্যোক্তা বনে যাবার প্রকল্প পাখির মত ডানা মেলতে শুরু করে। সেই হাতেগোনা কয়েকজন ক্রেতা দিয়ে শুরু করা ফ্যাশন হাউজ এতদিনে বড় হয়েছে। আজ সেটাই “মাহনূর” লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড নামে পরিচিত। সেখানে হয়েছে হাজারো লোকের কর্মসংস্থান । কিন্তু সেখানেই থেমে নেই “মাহনূর” ব্র্যান্ড, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন সময় কিশোর-তরুণদের নিয়ে একের পর এক আয়োজন করে যাচ্ছেন বহুমুখী ওয়ার্কশপ। লক্ষ্য সারাদেশব্যাপি ছড়িয়ে পরা।

পাশাপাশি এই ব্রান্ড থেকে চ্যারিটেবল কাজের অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যালয়, যেখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব মেয়েদের পড়াশোনার খরচ সহ সম্পূর্ণ খরচ বহন করে “মাহনূর” এবং বি জামান ফাউন্ডেশন। দেশব্যাপী “ভ্যালু এডেড এডুকেশন ” নিশ্চিত করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা!

কঠোর পরিশ্রম আর লেগে থাকার ফলে ২০১৩ সালে বিনা পুঁজিতে শুরু করা “মাহনূর” আজ কয়েক লক্ষ টাকার সম্পদ। ব্যবসায়ের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BIFT) তে আছেন তিনি। লক্ষ্য এখন সকলের “স্বপ্ন” বাস্তবে রুপান্তরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়া।