২৩, জুলাই, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০

গণমাধ্যমকর্মীদের এবার হোটেল ছাড়ার আলটিমেটাম পুলিশের

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

গণমাধ্যমকর্মীদের এবার হোটেল ছাড়ার আলটিমেটাম পুলিশের

ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সোমবার রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার পর এবার সেই সাংবাদিকদের হোটেল ছাড়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে নবাবগঞ্জে থানা রোডে শামীম গেস্ট হাউসে হঠাৎ পুলিশের একটি দল এসে হোটেল মালিককে এ হুমকি দেয়।

হোটেল মালিক সিএনআই’কে জানান, হঠাৎ করে পুলিশ এসে জানায় হোটেলে অবস্থানরত যেসব সাংবাদিক আছে তাদেরকে ২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ছেড়ে যেতে হবে। অন্যথায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। এরপর আমি সাংবাদিকদের এ বিষয়টি অবহিত করি।

ওই হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মুজিব মাসুদ জানান, আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদেরকে হোটেল থেকে ফোন দেয়। তারা জানায় আপনারা যেখানেই থাকেন তাড়াতাড়ি আসেন, ২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আমরা আতঙ্কিত, চারিদিকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ রকম সংবাদ আমাদের আতঙ্কিত করেছে। হোটেলের নিদের্শ মতে আমরা হোটেল ছাড়ার প্রিপারেশন নিচ্ছি। তবে আমরা এখনো জানতে পারিনি আসলে কি কারণে আমাদের হোটেল ছাড়তে হচ্ছে।

গতকাল সোমবার ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

সোমবার রাত ১১টার দিকে নবাবগঞ্জে থানা রোডে শামীম গেস্ট হাউসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভাংচুর করা হয় ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন যুগান্তরের সাংবাদিক শামীম খান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিকরা।

সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখে গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ন্যক্কারজনক এ ঘটনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিক ভাবে থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেননি।

অথচ থানার কাছেই এ গেস্ট হাউস অবস্থিত। তবে এক ঘণ্টা পরে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। ওই সময় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, নবাবগঞ্জে শামীম গেস্ট হাউসের সামনে সোমবার হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরি করা হয়। তারপর রাতেই ন্যক্কারজনক এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা গালাগাল করে আর হুমকি দেয় যে, তোরা কার জন্য কাজ করতে এসেছিস। তোদের মেরে ফেলব।