২২, জুলাই, ২০১৯, সোমবার | | ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

চলতি বছরে ২০৮৩ নারী-কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৯

চলতি বছরে ২০৮৩ নারী-কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার

গেলো ছয়মাসে বাংলাদেশে যে সংখ্যক নারী ও কন্যা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা গেলো পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, চলতি বছরে মোট ২ হাজার ৮৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সোমবার (০৮ জুলাই) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়। নির্যাতন বন্ধে বিচার বিভাগের ভূমিকা ও আইন সংস্কারের কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।

এ বছরের প্রথম দিনই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামী সন্তানকে বেধে রেখে ধর্ষণ করা হয় এক গৃহবধুকে। আর গেলো শুক্রবার রাতে ওয়ারী এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ছয় বছরের শিশু সায়মা আফরিনকে। এর মাঝে আরোও দুই হাজারের বেশি নারী ও কন্যা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে পুরো দেশে।

গেলো ৬ মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গত ৫ বছরের চেয়ে গেলো ছয়মাসে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রায় ৪ গুন বেশি তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।

লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি পরিচালক মাকসুদা আক্তার লায়সী বলেন, এই সব ঘটনার মাত্র ৩-৪ শতাংশ মামলায় সাজা দেয়া সম্ভব। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি কারণে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। যা নারী আন্দোলনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, গেলো জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৯২ জন, আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এছাড়াও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জন নারীকে এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ২৭৬ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রিরার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। নারী নির্যাতন রোধে আলাদা আইন প্রণয়ন, নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করে দেয়াসহ বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।