২৩, মে, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৮ রমজান ১৪৪০

চলতি সপ্তাহেই নতুন মন্ত্রিসভা

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৯

চলতি সপ্তাহেই নতুন মন্ত্রিসভা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আওয়ামী লীগ চাইলে একাই সরকার গঠন করতে পারবে। আবার চাইলে ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করতে পারবে জোট শরিকদের সঙ্গে নিয়ে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার হোক আর মহাজোট সরকার হোক ইতিমধ্যে শপথ নেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের গেজেট প্রকাশের পরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। আর মন্ত্রিসভা গঠিত হবে চলতি সপ্তাহেই। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অনানুষ্ঠানিক কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পরই মূলত আনুষ্ঠানিক ভাবে মন্ত্রিসভার কাজ শুরু করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামী ৪থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।

মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা গঠনের দাফতরিক কাজগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করে থাকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (বিধি ও সেবা) শফিউল আজিম সোমবার সিএনআই’কে বলেন, ‘আমাদের এ সংক্রান্ত ফাইল প্রস্তুত করাই রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট জারি হলে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ যখন নতুনরা শপথ নেবেন তখন অটোমেটিক্যালি বর্তমান মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট জারির পর তাদের শপথ পড়ানো হবে। এরপর সংসদ সদস্যরা বৈঠক করে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়ানো হবে। এরপর সংসদ সদস্যদের ভেতর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেবেন।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দফতর বণ্টনের আদেশ জারি করবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৯ আসন। গত রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ২৮৮টি আসনে আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১টিতে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে।

বিএনপি জোট অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র সাতটি (বিএনপি ৫, গণফোরাম ১ ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ১) আসন। স্বতন্ত্রসহ অন্যরা জয় পেয়েছে ৩টি আসনে।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দু’জন উপমন্ত্রী ছিলেন। এরা ছাড়াও মন্ত্রীর মর্যাদায় বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ছিলেন দশম সরকারের ক্যাবিনেটে।

পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছে এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

তিনি যাদের চাইবেন তাদেরই জায়গা হবে নতুন মন্ত্রিসভায়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার জন্য শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে নতুন সদস্যদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত রাখবে সরকারি যানবাহন অধিদফতর (পরিবহন পুল)।

শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।