২৬, জুন, ২০১৯, বুধবার | | ২২ শাওয়াল ১৪৪০

জঙ্গল থেকে কচু শাক তুলে বিক্রি করা ছেলেটাই এখন মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রী

আপডেট: জুন ১১, ২০১৯

জঙ্গল থেকে কচু শাক তুলে বিক্রি করা ছেলেটাই এখন মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রী

সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে ফের সরকার গঠন করেছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি। এক সময়কার চা বিক্রেতা মোদী টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশটির ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন।

তবে শুধু চা বিক্রেতাই নয়, মোদির এই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কচুশাক বিক্রেতাও। এক সময় তিনবেলা খাবার জুটতো না তাঁর। বেশির ভাগ সময় জঙ্গল থেকে কচু এবং ঢেকি শাক তুলে এনে ক্ষুধার চাহিদা মেটাতেন।

আবার অতিরিক্ত কচু শাক হাটে বিক্রি করে অন্যান্য খাবার কিনে আনতেন পরিবারের সদস্যদের জন্য। এমন অভাবী ব্যক্তি এবার হয়েছেন মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রী।

এক সময়ের কচু বিক্রেতা রামেশ্বর তেলি এবার অসমের দুলিয়াজান থেকে বিজেপির হয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাকে এবার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

জানা যায়, ছেলেবেলা থেকে দারিদ্রতার কষাঘাতে পিষ্ট হয়েছেন রামেশ্বর তেলি। বাবা ছিলেন সামান্য চা শ্রমিক। ডিব্রুগড়ের চা বাগানে কাজ করতেন। তবে ভাই, দুই বোন নিয়ে ৬ জনের সংসার বাবার সেই টাকায় তেমন একটা চলত না। মাসের অর্ধেকটা না পার হতেই শেষ হয়ে যেত সে টাকা। বাকি অর্ধেকটা সময় পরিবারের খাবার যোগাতে ১২ বছর বয়স থেকে কাজে নেমে পড়েন রামেশ্বর।

কিশোর বয়স থেকেই ২ বছরের ছোট ভাই গুণেশ্বরকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন আশেপাশের জঙ্গল ঘুরে বেড়াতেন রামেশ্বর। জঙ্গল থেকে কচু আর ঢেকি শাক সংগ্রহ করে ঝুড়িতে করে নিয়ে চলে যেতেন স্থানীয় বাজারে। সারাদিন সেগুলো বিক্রি করে যা পয়সা পেতেন তা দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনে আনতেন।

এর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন রামেশ্বর। তবে বাবার মৃত্যুর পর মা, ভাই এবং দুই বোনের পুরো সংসারের দায়িত্ব চাপে তার কাঁধে। কচু বিক্রি করে যা চালানো সম্ভব নয়। তাই সংসারের হাল ধরতে রামেশ্বর তেলি বাড়ির কাছেই একটি পানের দোকান দেন। সেই দোকানের উপার্জন দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই বোনের বিয়েও দেন রামেশ্বর।

পানের দোকান করতে করতেই ভর্তি হন কলেজে। যোগ দেন অসমের চা জনগোষ্ঠীর ছাত্র সংস্থা আটসায়। এখান থেকেই জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বগুণের কারণে বিজেপি নেতাদের চোখে পড়েন। ২০০১ ও ২০০৬ সালে হন বিধায়ক, তারপর ২০১১ সালে হেরে যান।

কিন্তু ২০১৪ সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। কারণ তিনি এক লাখ ৮৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন কংগ্রেসের পাঁচ বারের সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিংহ ঘাটোয়ারকে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে একই প্রতিদ্বন্দ্বীকে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান তিনি।

বিপুল জনপ্রিয়তা ও জনগণের ব্যাপক সমর্থনের কারণেই মোদী তাঁকে মন্ত্রিসভায় নিয়েছেন। সংসার ও রাজনীতি করতে গিয়ে এখনও বিয়ে করা হয়নি ৪৯ বছর বয়সী রামেশ্বরের। এখন তার জন্য পাত্রী খুঁজছেন তার মা, ‍যিনি বৃহস্পতিবার ছেলেকে দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।