২৬, জুন, ২০১৯, বুধবার | | ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গাপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯

ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গাপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি

জেলা শহরের বাইরে উপজেলা পর্যায়ে একমাত্র সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত সহাকারী জজ আদালত রয়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে।

সুসং পরগনার রাজাদের অনুরোধে ব্রিটিশ সরকার সীমান্ত এলাকায় জনগণের সুবিধার্থে দুর্গাপুরে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে ভীতিকর অবস্থায় রূপ নিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভবনটি ভেঙে প্রাণহানি ঘটতে পারে অসংখ্য মানুষের।

এ নিয়ে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপুর সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করা হয়, গত কয়েক বছর আগে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের প্লাস্টার খসে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানিতে ভিজে যায় মূল্যবান নথিপত্র। ব্যাঘাত ঘটে বিচারিক কার্যক্রমের। তাছাড়া ভবনটি এতই জরাজীর্ণ, যে কোনো মুহূর্তে ধসে গিয়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে অসংখ্য মানুষের।

প্রতিবছরই অল্প অল্প সংস্কারকাজ করা হলেও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করায় জায়গাটি কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এতে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বাদী, বিবাদী, আইনজীবীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ব্যাঘাত ঘটছে বিচারিক কার্যক্রমের।

সংশ্লিষ্টদের দাবি ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করলে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলতে পারে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মানেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ১৯৮৫ সালে এই কোর্ট ভবনে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ওই সময় বিল্ডিং নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের জেরেই এই ভবনটি এত অল্পসময়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই ভবনের যা অবস্থা, তাতে যে কোনো সময় হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

তাছাড়া বর্ষার দিনে এজলাসের ভেতরেও পানি পড়ে। যার কারণে নষ্ট হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র। তাই সবসময় শঙ্কিত অবস্থায় কাজ করতে হয় আমাদের। অতি দ্রুত এই ভবনটি নতুন করে নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

এ নিয়ে নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহাদুর আলী জানান, ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সরেজমিনে ওই কোর্ট ভবনটি ভেঙে টিনশেড বিল্ডিং নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। ওই নির্দেশ মোতাবেক প্রাক্কলন পরিকল্পনা পাঠানোর পর এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না আসায় কোর্ট ভবনটি নতুন করে নির্মাণ করা যাচ্ছে না।