২৬, জুন, ২০১৯, বুধবার | | ২২ শাওয়াল ১৪৪০

টিসিবির ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকাভুক্ত ডিলাররা মালামাল তুলছেন না

আপডেট: মে ১৪, ২০১৯

টিসিবির ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকাভুক্ত ডিলাররা মালামাল তুলছেন না

লাভ তো হয়-ই না, কোনো কোনো সময় লোকসান হয়, এই অজুহাতে টিসিবির ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকাভুক্ত ডিলাররা মালামাল তুলছেন না। রমজান মাসে ন্যায্য মূল্যের টিসিবির মালের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অনুমোদিত ডিলার মাল আনছেন না।তাই রংপুরের মাহিগঞ্জ থেকে তাদের মালামাল আনতে হয়।

ডিলাররা জানান, ট্রাক ভাড়া দিয়ে নির্ধারিত দামে মালামাল বিক্রি করে তাদের লাভ হয় না। রংপুর ও তার আশেপাশের এলাকার ডিলারদের পরিবহন খরচ কম। তারা পোষাতে পারে, কিন্তু ঠাকুরগাঁও বা পঞ্চগড় জেলায় ট্রাক ভাড়া দিয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে তেমন লাভ হয় না।

ঠাকুরগাঁও শহরের হলপাড়ার ‘স্বর্গ সমুদ্র ট্রেডার্স’ একমাত্র ডিলার, যিনি সীমিত পরিমাণ টিসিবির মাল এনে বিক্রি করছেন।

স্বর্গ সমুদ্র ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী সুব্রত সরকার জানান, ‘খুব সামান্য লাভ হলেও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে তিনি মাল এনে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করছেন।’

এই ডিলার জানান, প্রতি কেজি ছোলা ৬০ টাকা, চিনি ৪৭ টাকা, তেল ৮৫ টাকা লিটার, ডাল ৪৪ টাকা, খেঁজুর ১৩৫ টাকা দরে তিনি বিক্রি করছেন।

জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও সদরে ছয়জন টিসিবির ডিলার রয়েছেন। তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও রোডের হাসান আলী, গড়েয়া গোপালপুরের মতিউর রহমান, কিসমত পাহাড়ভাঙ্গার নজরুল ইসলাম, শহরের কালিবাড়ির প্রদীপ কুমার সাহা, পীরগঞ্জ লোহাপাড়া বাজারের মহসীন স্টোর ও শহরের হলপাড়ার স্বর্গ সমুদ্র ট্রেডার্স। সমগ্র জেলায় রয়েছেন ২৬ জন ডিলার।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ জানান, জেলার প্রতি ইউনিয়নে দুইজন করে টিসিবির ডিলার রয়েছেন। কিন্তু তেমন লাভ নেই বলে কেউ মাল তোলে না।

তিনি জানান, রংপুর মাহিগঞ্জ থেকে দূরত্ব হিসেবে দাম নির্ধারণ করে দিলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন।

তিনি জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা প্রশাসন রমজান মাসে পণ্য বিক্রি করছেন ভর্তুকি দিয়ে। কম দামে পণ্য কেনার জন্য প্রতিদিন ক্রেতারা ভিড় করছেন এখানে।

এনডিসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত দোকান থেকে প্রতিদিন দুইশ জন পণ্য নিতে পারছেন। ৭০ টাকা লিটার হিসাবে ২ লিটার সয়াবিন তেল, ৪৫ টাকা দরে ১ কেজি ছোলা, ৩৩ টাকা দরে ১ কেজি চিনি, ৩০ টাকা দরে ১ কেজি মসুর ডাল নিতে পারছেন ক্রেতারা। কম দামে পণ্য বিক্রি করায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সুত্রঃ ইউএনবি