১৮, জুন, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

দুই টাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেয়া হবে নতুন জামা

আপডেট: মে ২৫, ২০১৯

দুই টাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেয়া হবে নতুন জামা

সিলেট নগরীতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘দুই টাকায় ঈদের খুশি’। ‘দি হেলপিং উইং’ নামে সিলেট নগরীর একটি সামাজিক সংস্থা হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আগামী ১২জুন আয়োজন করছে ‘দুই টাকায় ঈদের খুশি’ নামে নানা অনুষ্ঠানমালা।

আয়োজক সংস্থা সূত্র জানায়, মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে দেয়া হবে তার পছন্দ মতো একটি করে নতুন জামা, একটি করে নতুন খেলনা, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকালের নাস্তা, সিলেটের যে কোনো একটি পার্কে গাড়ি যোগে নিয়ে যাওয়া হবে বেড়ানোর জন্য এমনকি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা ওইসব শিশুদের পছন্দ মতো একক বা গ্রুপ ছবিও তুলে দেবেন।

এ সংস্থাটি রমজানে সিলেট নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত লোকজনের মধ্যে ২ টাকায় দশ পদের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে। গত ১৩ মে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় ‘হেল্পিং উইং’’র ইফতার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর নগরীর রিকাবীবাজার, সুবিধবাজার, শাহী ইদগাহ ও নয়াসড়কে ২ টাকায় আরও চারদিন ইফতার বিতরণ করা হয়। টানা পাঁচ দিনের এমন আয়োজনে সিলেট সিটি মেয়র ছাড়াও যুক্ত হয়েছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন।

১৩ মে থেকে ১৭ মে প্রতিদিন সংস্থার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য লোকজনের হাতে তুলে দিয়েছেন ইফতারির প্যাকেট ও খাবার পানি। সংস্থাটি আবারও ২৬ মে নগরীর শিবগঞ্জ পয়েন্টে ইফতারি বিতরণ করার উদ্যোগে নিয়েছে। দি হেলপিং উইংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গালিব হোসেন চৌধুরী জানান, ‘বাজারে জামা কাপড়ের যে চড়া মূল্য তাতে অধিকাংশ সুবিধাবঞ্চিত শিশু বা তার পরিবারের পক্ষে ঈদে নতুন জামা কাপড় কিনে দেয়া কিংবা শিশুর হাতে একটি খেলনা তুলে দেয়া অনেক সময় দরিদ্রতার কারণে হয়ে উঠে না। তাই আমরা বড় পরিসরে হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের অংশ গ্রহণে তাদের মাঝে ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন করতে চাই।’

‘এজন্য ঈদুল ফিতরের দিন তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঈদুল ফিতরের পরপরই তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হবে সিলেটের যে কোনো একটি পার্কে। মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে কিনে দেয়া হবে নতুন জামা, নতুন খেলনা।’ তিনি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে ও এ আয়োজনকে সফল করতে আগামী ১২ জুনের মধ্যে প্রবাসী, সমাজের দানশীল, বিত্তবানসহ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষকে নতুন জামা কাপড়, খেলনা বা অনুদান দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।