১৮, জুন, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না খুলনার কয়রাবাসির

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না খুলনার কয়রাবাসির

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না কয়রাবাসির। নদীর অব্যাহত ভাঙনে কয়রার কপোতাক্ষ নদের ঘাটখালি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে পুরো এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

রবিবার রাতের জোয়ারে ঘাটখালি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে হঠাৎ লবন পানিতে পুরো ঘাটখালি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় কাজ করে পানি প্রবেশের হাত থেকে রেহাই পেলেও ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকবাসি।

বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে চলতি বোরো মওসুমের পাকা ধান, মৎস্য ঘের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারাও রয়েছেন আতঙ্কে। ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটখালি ও হরিণখোলার বেড়িবাঁধ।

ঘাটখালি গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধস  বেড়েই চলেছে। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে চলতি বোরো মওসুমের পাকা ধান ক্ষতির পাশাপাশি মৎস্য ঘের তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

ইতোমধ্যে এলাকার অনেক মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ গবাদী পশু অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. গফ্ফার ঢালী বলেন, ভাঙনরোধে স্থানীয় এলাকাবাসি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম বলেন, ঘাটখালি এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁধ বাঁধার  ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে  জানিয়েছি।

কয়রা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সহযোগিতায় বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।