১৭, জুন, ২০১৯, সোমবার | | ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নায়িকা হতে গিয়ে প্রতারিত তানিয়া চোরচক্রের প্রধান!

আপডেট: মে ২৮, ২০১৯

নায়িকা হতে গিয়ে প্রতারিত তানিয়া চোরচক্রের প্রধান!

নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে এসে বনে গেলেন ফাঁদে ফেলে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া একটি চোরচক্রের প্রধান হোতা। তানিয়া সিকদার নামের এ নারী চুরির দায়ে এর আগে আরো দুবার জেল খেটেছেন।

কখনো নদী, কখনো ডাক্তার নওশীন বা সাদিয়া রহমান নামে পরিচয় দিতেন তানিয়া সিকদার। তার হাবভাবে আভিজাত্যের ছাপ ছিল। চলাফেরা করতেন প্রাইভেট গাড়িতে। দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি চোর।

গত রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-ডিএমপি) উত্তরের গুলশান জোনাল টিম মূলহোতা তানিয়াসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। উত্তরা ৭নং সেক্টরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, এসময় তানিয়ার ব্যাগ থেকে প্রায় ৬ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার এবং দেড় লাখ টাকা ও প্রতারণায় ব্যবহূত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

বাকিরা হলো সহযোগী আসিফ, দুলারী ওরফে আফসানা, গাড়িচালক কালাম ও রায়হান। রায়হান উত্তরার একটি শপিংমলের স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী। তাকে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টি সেন্টারে অভিনব কায়দায় বিত্তশালীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়ার ব্যবস্থা করত তানিয়া। এরপর সুযোগ বুঝে চুরি করে সরে পড়ত।

তানিয়ার বক্তব্যের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, নায়িকা হতে গিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হন। একপর্যায়ে চুরির পেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন চোরচক্রের প্রধান। নায়িকা হতে গিয়ে সেখান থেকেই মানুষ তাকে প্রতারিত করেছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই তিনি চুরির পেশায় নামেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর ধনী পরিবারগুলোকে টার্গেট করে তাদের বিষয়ে সব খোঁজখবর নিয়ে বাসায় যেতেন তানিয়া। বাসার লোকজনকে বোকা বানিয়ে অভিনব উপায়ে সর্বস্ব লুট করতেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে থাকেন সাবেক ব্যাংকার খলিলুর রহমান। গত ১৯ মে সন্ধ্যার আগে মেয়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাসায় আসেন এক সুন্দরী তরুণী। বাসার ভেতরে ঢুকে সবাইকে বোকা বানিয়ে সব গহনা, টাকা লুট করে পালিয়ে যান ওই তরুণী।

খলিলুর রহমান জানান, ইন্টারকম ফোন করে বলে আমি আপনার মেয়ের বান্ধবী, বাসায় আসতে চাই। তারপর বাসায় এসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।

তার ঠিক ১০ দিন আগে একই কৌশল অবলম্বন করে বসুন্ধরা এলাকার আরেকটি বাসায় যান এই নারী। সেখানে লন্ডনে থাকা জাবিরের বন্ধু পরিচয় দেন তার স্ত্রীর কাছে। ভুলিয়ে-ভালিয়ে বেডরুমের আলমারি থেকে নিয়ে যান প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ, ডায়মন্ডের একটি আংটি, দুটি নেকলেস ও একটি রুপার হার। সেই নারীর আসা-যাওয়ার সব দৃশ্য মেলে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এমন ঘটনায় বিস্মিত জাবিরের স্ত্রী ফারজানা তাসমী বলেন, সে এত কনফিডেন্টলি কথা বলে; আমি তাকে সন্দেহ করার মতো কোনো সুযোগই পাইনি। অবস্থা এমন যে, আমি তাকে যে ধরনের প্রশ্ন করব সে তার উত্তর দিতেই তৈরি। চুরি করে আনা স্বর্ণ বিক্রি করা হতো উত্তরার মাসকাট প্লাজার একটি দোকানে। সেখান থেকে কিছু স্বর্ণ উদ্ধারও করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এ নারী এর আগে আরো ১০-১২টির মতো চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন। দুবার সন্দেহজনকভাবে ধরা পড়ে জেল খেটেছেন। এবার প্রমাণসহ পুরো চক্র আটক হওয়ায় জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।