১৮, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১২ শা'বান ১৪৪০

নুসরাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোকাহত ছোট ভাই রায়হান

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯

নুসরাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোকাহত ছোট ভাই রায়হান

কান্না থামছে না অগ্নিদগ্ধে নিহত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের স্বজনদের। সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের কবরের পাশে অঝোরে কেঁদেই চলেছেন ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

বুক থাপড়িয়ে ‘বোন কাকে ডাকবো’ বলে বারবার বেহুস হচ্ছেন তিনি।

বাড়িতে বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, বাবা একেএম মুসা মানিক ও মা শিরিন আক্তারের কোনো হুশ-ই নেই। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পরিবারের স্বজনসহ এলাকাবাসী নুসরাত জাহান রাফির কবর জিয়ারত করেন। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ তার কবর জিয়ারত করতে ছুটে আসছেন বলে এলাকাবাসী জানান। নুসরাতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে দলে দলে ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ।

পরিবার সূত্র জানায়, নুসরাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোকাহত হয়েছে ছোট ভাই রায়হান। মাত্র দুই বছরের বড় নুসরাতের সঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসা করত। অনেকটা সমবয়সী বলে ভাইবোনের মধ্যে খুনসুটি লেগেই থাকত।

চোখের সামনে বোনের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে সে। রায়হানও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে ফেনী ও সোনাগাজী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে সোনাগাজীতে ছাত্রলীগের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর এমরান, সোনাগাজী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নেয়ামক উল্যাহ, পৌর ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হেলাল উদ্দিন, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জীবন মিয়াজী, বগাদানা ইউনিয়ন সভাপতি রুবেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

একই দিন বিকালে ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়’। মানববন্ধনে আভাসের সংগঠক শুভ নীল পিকলু, উৎপল সুজন, ফজলে রাব্বি মোস্তফা শুভ, রিপন মজুমদার, সোলায়মান হাজারী ডালিম, রুবেল হাজারী, তারেক, অনিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন