২৩, মার্চ, ২০১৯, শনিবার | | ১৬ রজব ১৪৪০

পাখির চেয়েও বেশি উড়ে বেড়ান তিনি!

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৯

পাখির চেয়েও বেশি উড়ে বেড়ান তিনি!

বিখ্যাত এভিয়েশন ব্লগার স্যাম চুই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আমন্ত্রণে এসেছিলেন এদেশে। গত সোমবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটে চড়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? ‘পাঁচ তারকা সেবার আশা করা উচিত হবে না নিশ্চয়ই।’ অকপটে জানালেন স্যাম। বিমানের খাবার প্রস্তুত কক্ষ এবং রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার দেখে তখন সদ্য ফিরেছেন। বললেন, ‘তবে আমি আতিথেয়তায় মুগ্ধ। কেবিন ক্রুরা আন্তরিকতার সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসে।’ আর খাবার? একটা ‘তবে’ জুড়ে দিয়ে উত্তর দিলেন। ‘সেরা নয়।’ এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এলেন স্যাম। এর আগে এসেছিলেন ২০১১ ও ২০১৩ সালে। তিনবারই মুরগির তরকারি খেয়েছেন। ‘বৈচিত্র্য কম। তবে আমার কিন্তু ভালোই লেগেছে।’

ইউটিউবে ৯ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক আছে স্যাম চুইয়ের। বাংলাদেশেও তার ভক্তকুলের সংখ্যা একদম কম না। ৫ মার্চ সকালে তাদেরই একাংশের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিমানই আয়োজন করে দিয়েছিল। সেখানে অর্ণব নামের এক ভক্তের কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে যান স্যাম। বললেন, ‘তিনি ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এটা আমার জন্য নতুন।’

বাংলাদেশে আতিথেতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন স্যাম চুই। তিনি বলেন, ‘লম্বা সময় জার্নি করে বাংলাদেশে এসেছি। অনেক আগে একবার এই দেশে এসেছিলাম। এখন অনেক পরিবর্তন দেখছি। বিমান, বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় বাংলাদেশের মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আমাকে। এ দেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ।’

উড়োজাহাজে প্রতি বছর তিন লাখ মাইল ভ্রমণ করেন স্যাম চুই। ইউটিউবে তার চ্যানেলে ৯ লাখ ৭০ হাজার সাবস্ক্রাইভার রয়েছে। এছাড়া নিজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রামেও নিয়মিত এভিয়েশন নিয়ে পোস্ট করেন তিনি। আকাশপথের প্রতি ভালো লাগা প্রসঙ্গে স্যাম বললেন, ‘এভিয়েশন সবসময় বিকশিত হতে থাকে। এটা কখনও থেমে থাকে না। এটাই এই খাতের সৌন্দর্য। প্রতিনিয়ত এভিয়েশন নিয়ে খবর তৈরি হয়। এ নিয়ে কখনও বিরক্তি ধরে না। এভিয়েশন নিয়ে মানুষের দারুণ কৌতূহল আছে।’

এভিয়েশন ব্লগিং স্যাম চুইয়ের পেশা হয়ে গেছে। এ দিকটি বেছে নিলেন কেন? তার উত্তর, ‘এটা আমার অনেকদিনের শখ। সম্ভবত লাইফটাইম শখ! শখটাই এখন চাকরি হয়ে গেছে বলতে পারেন। খুব কম বয়স থেকেই এভিয়েশনের প্রতি ভালো লাগা জন্মেছিল আমার। তাই ঠিক করলাম এভিয়েশনের প্রতি আমার আবেগ ও অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করবো।’

ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নিয়ে রিভিউ প্রকাশ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন স্যাম চুই। আগামীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নিয়েও থাকবে তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনা।

ইউটিউবে স্যামের চ্যানেলে ২২৭টি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নিজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রামেও নিয়মিত এভিয়েশন নিয়ে পোস্ট করেন স্যাম। বিশ্বজুড়ে তার অসংখ্য ভক্ত রয়েছে। উড়োজাহাজে প্রতি বছর তিন লাখ মাইল ভ্রমণ করেন বিখ্যাত এই এভিয়েশন ব্লগার।