১৭, জুন, ২০১৯, সোমবার | | ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

পানি আমাদের জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৯

পানি আমাদের জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে : প্রধানমন্ত্রী

নিয়মিত ড্রেজিং করে নদীর প্রবহমানতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এ সময়, সেতু তৈরির সময় নদীর গতিপথ যাতে পরিবর্তন না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’ অর্থ্যাৎ ‘পানি সবার অধিকার, বাদ রবে না কেউ আর’ এই প্রতিপাদ্যে এবারের পানি দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিয়মিত ড্রেজিং করে নদীর প্রবহমানতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী ড্রেজিং করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যাতে নদী স্বাভাবিক প্রবহমানতা বজায় থাকে।’ দখল হওয়া নদী ও খাল উদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি।

নদীর স্বাভাবিক গতি যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে, তিনি পানি ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

আর সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে প্রতিবেশিদের সাথে ৫৪টি যৌথ নদীর পানি সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে বলেও জানান সরকার প্রধান। ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে গঙ্গা নদীর পানিতে আমাদের যে অধিকার আছে, সেটাও নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। কিন্তু এই পানি অনেক সময় মানুষের জীবন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য যেন পানি আর্শীবাদ হয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পানি ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘নদী, খাল, বিল, পুকুর, ডোবা খনন করে পানি ধরে রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে যেন আমরা এই পানি ব্যবহার করতে পারি। বিশ্বের অনেক দেশে সুপেয় পানির খুব অভাব। বিশুদ্ধ পানির জন্য সেসব দেশে হাহাকার চলে। আমরা সে সব দেশে পানি বিক্রি করতে পারি।’ তাই শুধু ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর না করে বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ করতেও আহ্বান জানান তিনি।

নদী দূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নদীর পাড়ে গাছ লাগানোর তাগিদ দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘বদ্বীপ অঞ্চলে বসবাস করার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। প্রকৃতি আমাদের যেমন দেয়, তেমন নেয়। তাই শুধু প্রকৃতির দিকেই চেয়ে না থেকে নিজেদেরকেও তৎপর হতে হবে।’