২৩, মে, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৮ রমজান ১৪৪০

বরিশালের ২১ আসনে ৪১ প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার, ভোটে লড়বে ১২০ জন

আপডেট: ডিসেম্বর ১০, ২০১৮

বরিশালের ২১ আসনে ৪১ প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার, ভোটে লড়বে ১২০ জন

মোঃ হাসান আহমেদ (বরিশাল) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনে দলের সিদ্ধান্তে গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৪১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যাতে করে পুরো বিভাগে ভোটে লড়াইকারী প্রার্থীতার সংখ্যা দাঁড়ালো ১২০ জন। এরমধ্যে বরিশালের ৬টি আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৩৮ জন, ঝালকাঠির দুটি আসনে ১১জন, পিরোজপুরের ৩টি আসনে ১৮জন, পটুয়াখালীর ৪টি আসনে ২৩জন, ভোলার ৪টি আসনে ১৭জন এবং বরগুনার ২টি আসনে ১৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ওদিকে এই ২১টি আসনের মধ্যে বরগুনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, জেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা। বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) নুরুল ইসলাম পান্না।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর বরগুনার দুটি আসনে ১৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কবীর মাহমুদ। তাদের মধ্যে একজনের মামলাজনিত এবং অন্য দুইজন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির পর বরগুনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বরগুনায় চারজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এখন বরগুনার দুটি আসনে ১৩ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসন থেকে তিনজন ও ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে একজনসহ মোট চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ক প্রত্যাহার করেছেন। প্রার্থীরা হলেন, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল (সয়ংক্রিয় ভাবে) ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড আবুল হোসাইন ও জেপি (মঞ্জু) মো. রুবেল আবেদন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। এদিকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপির ইসরাত সুলতান ইলেন ভূট্টো (সয়ংক্রিয় ভাবে) তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার হয়ে যায়।

আবেদনকারীরা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জেপি (মঞ্জু) জোটগত ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারনে পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এ ছাড়া বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী দলথেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে ওই দলের বাকী প্রার্থীদের মনোনয়ন সয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে কোন আবেদন করতে হবে না।’

উল্লেখ্য, জেলার দুইটি আসনে এখন মোট দশজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদন্দীতা করবে। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) থেকে পাঁচজন ও ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) থেকে পাঁচজন। পটুয়াখালীর ৪টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ৯ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় অফিস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীরা হলেন, পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকী) আসন থেকে বিএনপির সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী, গণফোরামের আ. আজিজ ও ইসলামি ঐক্যজোটের আ. রহমান শাহ আলম। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির মো. শাজাহান খান ও হাসান মামুন এবং গণফোরামের মোহাম্মদ উল্লাহ। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান মনির ও জাসদের বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহীসহ (স্বতন্ত্র) ৫ জন প্রার্থী সরাসরি তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া ৬টি আসনে বিএনপির ৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় ওই দলের অপর ৬ জন প্রার্থী বিধিমোতাবেক প্রত্যাহার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর ছিলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) যথাক্রমে ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন, শের-ই বাংলার দৌহিত্র এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এবং সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা সরাসরি তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। এছাড়া বরিশাল-৬ আসনে গণফোরামের দুই নেতা যথাক্রমে অ্যাডভোকেট হিরন কুমার দাস মিঠু এবং মো. ফোরকান আলম খান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপি’র ২জন করে প্রার্থী ছিলো। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৬ জন প্রার্থী দলের চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর ফলে ৬টি আসনে বিএনপি’র অপর ৬ জন প্রার্থীর প্রার্থীতা বিধি মোতাবেক প্রত্যাহার হয়ে গেছে। পিরোজপুরের তিনটি আসনে ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭জন তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল (সাইদুর) ও সহ সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পিরোজপুর-১ আসনের বর্তমান এমপি আউয়াল ও পিরোজপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি ডা. আনোয়ার দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পিরোজপুর-৩ আসনে (মঠবাড়িয়া) ওয়ার্কার্স পার্টি’র প্রার্থী ফিরোজ আলমও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদিকে পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ায় মানবতা বিরোধী অপরাধের আমৃত্যু কারাভোগকারী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র ছেলে শামীম সাঈদী ২০দলের প্রার্থী। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রার্থী মোস্তফা জামাল হায়দার ও বিএনপি’র প্রার্থী ব্যারিষ্টার সরোয়ার হোসেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। পিরোজপুর-২ আসনে একই ভাবে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে শরিকদল লেবার পার্টির মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ২০দলের প্রার্থী হচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি’র আহমেদ সোহেল মঞ্জুরকে প্রতীকের অভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে হচ্ছে। পিরোজপুরের তিনটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন ১৯ জন। এবং ভোলার চারটি আসনে বিএনপির ৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও ডিসি মাসুদ আলম ছিদ্দিকের কাছে তারা এ প্রত্যাহারপত্র জমা দেন।

মনোনয়ন প্রত্যাহারকৃতরা হলেন- ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও বিজেপি প্রার্থী রেবা রহমান। ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মমিন ও মারুফ ইব্রাহিম আকাশ। ভোলা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী কামাল হোসেন। ভোলা-৪ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন। এদিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ভোলা-১ আসনে বিএনপি থেকে গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা-২ আসনে হাফিজ ইব্রাহিম, ভোলা-৩ আসনে মেজর (অবসর) হাফিজ উদ্দিন ও ভোলা-৪ আসন থেকে নাজিম উদ্দিন আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।