১৮, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১২ শা'বান ১৪৪০

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পটি এখনো অনেক বাকি: ড. আতিউর রহমান

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৯

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পটি এখনো অনেক বাকি: ড. আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নের গল্পটি প্রকৃত অর্থেই চমকপ্রদ। তবে গল্পের এখনো অনেকটা বাকি আছে। নব্বই দশকের মধ্যভাগে যে অর্থনীতির আকার ছিল ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা এখন বেড়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জনগণের উন্নয়নের প্রবল আকাক্সক্ষা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের কারণেই এমন সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত শুক্রবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (বিডিআই) আয়োজিত পঞ্চম বিডিআই কনফারেন্সে ‘আগামী তিন দশকে বাংলাদেশ : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিডিআইর সভাপতি মুনির কুদ্দুস কনফারেন্সে আগত দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন।

অধিবেশনে প্যানেল আলোচক ছিলেন সিপিডির পক্ষ থেকে ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং ইউএনডিইএসএর পক্ষ থেকে ড. নজরুল ইসলাম।

ড. আতিউর বলেন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ, জনমিতিক পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশের মতো বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য সুসমন্বিত উদ্যোগ ও সুশাসন নিশ্চিত এখন অত্যন্ত প্রয়োজন। আগামী দিনে ডিজিটাইজেশন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাতই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। অধিবেশনের দুজন প্যানেল আলোচকই বিকেন্দ্রীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনাসহ সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দেন। এ ছাড়া তারা ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং শিক্ষার গুণমান নিয়ে ভাবা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন। যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার অভাব শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের পেছনে কাজ করছে এবং তাই নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ড. আতিউর বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকেই গৃহীত প্রকল্পগুলোর দক্ষ ও গুণমানসম্পন্ন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যেন উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যয়-সাশ্রয়ী হয়। এ ছাড়া সামষ্টিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যেক্তাদের প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও তাদের বাজারের সঙ্গে সংযুক্ততা বাড়াতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।