১৮, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১২ শা'বান ১৪৪০

বৈশাখে শাড়িতে নারী

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯

বৈশাখে শাড়িতে নারী

শাড়ি ছাড়া নারীর বৈশাখ উদ্‌যাপন অনেকটাই অপূর্ণ। বৈশাখের শাড়িতে বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন ডিজাইনাররা। মোগল আমলের স্থাপত্যের নানা নকশা এসেছে ডিজাইনে। লাল পাড় সাদা শাড়ির আঁচলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নকশা। জমিনে রয়েছে পুঁতির কাজ। শুধু কি তাই, পহেলা বৈশাখের এসব শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে জুতা থেকে শুরু করে গয়নাও তৈরি করেছেন ডিজাইনাররা। ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে জুতা ও গয়না পরতে পছন্দ করেন নারীরা। তাঁদের জন্যই পহেলা বৈশাখের মোটিফে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের গয়নার ডিজাইন করেছি। আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল পাওয়া যাবে এসব গয়নায়।’

পহেলা বৈশাখ মানেই লাল-সাদার কম্বিনেশন। ডিজাইনাররা অবশ্য বৈশাখী শাড়িতে নকশা আর রং পরিবর্তনের ছোঁয়া নিয়ে আসছেন। এবারও শাড়ির রঙে লাল-সাদার প্রাধান্য। তবে অন্যান্য রঙের সমাহারও চোখে পড়ার মতো; যদিও লাল-সাদার প্রতিই ক্রেতাদের বেশি আকর্ষণ বলে জানালেন ফ্যাশন হাউসগুলোর বিক্রয়কর্মীরা।

ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বৈশাখ মানেই আমাদের মনে সবার আগে ফুটে ওঠে লাল-সাদা। আটপৌরে সুতি আর গরদ শাড়িতেই আমাদের মা-ঠাকুমার বৈশাখ উদ্‌যাপন করেছেন। এর সঙ্গে প্রতিবছরই ডিজাইনাররা বৈশাখ নিয়ে তাঁদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা যোগ করে শাড়ির ডিজাইন করে থাকেন। প্রাচীন বাংলা থেকে স্বাধীন বাংলায় বৈশাখের যে নিজস্বতা, সেটা এবারও আমাদের শাড়িতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান বলেন, ‘আদিকাল থেকেই বাঙালির উৎসব মানেই রঙের খেলা। পহেলা বৈশাখের চিরায়ত রং লাল-সাদার মধ্যেও অন্যান্য রং স্থান করে নিয়েছে।  শাড়ি, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজে লাল-সাদার পাশাপাশি কমলা, হলুদ, নীল, খয়েরি, সবুজ প্রভৃতি রঙের ব্যবহার করেছেন ডিজাইনাররা।’

পহেলা বৈশাখের শাড়ির কাপড় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সুতি, সিল্ক ও মসলিন। আর নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে প্রকৃতি, দেশীয় লোকজ মোটিফ, গুহাচিত্র ও আদিবাসী থিম। প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে শাড়ির ডিজাইন করা হয়েছে মূলত স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, হাতের কাজ ও অ্যাপ্লিক মাধ্যম ব্যবহারে করে।