২৭, মে, ২০১৯, সোমবার | | ২২ রমজান ১৪৪০

মায়ের ছায়া

আপডেট: মে ১২, ২০১৯

মায়ের ছায়া

মায়ের ঘরের দিকে তাঁকালে হু হু করে উঠে মন। তবুও অনেক কষ্ট নিয়ে আজ প্রবেশ করলাম মায়ের ঘরে, প্রবেশ করে চোখের জল যেন আর ধরে রাখতে পারলাম না। মনে বড় হাহাকার মা তুমি নেই। ঘরের এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলাম সব ই যেন আগের মত ই আছে ঠিকঠাখ মা শুধু তুমি নেই। টেবিলের উপর ফুলদানিটা ঠিক যেন সেখানেই আছে, মা যেখানে রাখত। পরিপাটি বিছানাটাও তেমনি আছে তাকাতেই মনে হলো মা যেন শুয়ে আছে। মায়ের কোরআন শরীফটা যেন কারো প্রতীক্ষায় আছে অনুভব করলাম। জায়নামায টার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম মা যেন সিজদায় আছে। তশবী টা যেন জোনাকীর মত জ্বলছে।

শুধু ফ্রেম বাধাঁনো দেওয়ালে ঝুলানো ছবি গুলোর যেন খানিকটা রতবদল হয়েছে। মায়ের পারসোনাল আলমারীটা ওপেন করতেই মনটা যেন আনন্দে নেচে উঠল। কি সুন্দর মিষ্টি একটা সুঘ্রাণ! মনে হয় মায়ের শরীরের সেই মায়াবী সুঘ্রাণ। মায়ের পড়নের শাড়ী গুলো দেখে মনে হল ঠিক মা’ ই যেন দাঁড়িয়ে আছে রকমারী বেশে নয়ন পটে। শাড়ীর স্তরটা র্স্পশ করলে মনে হলো মায়ের স্নেহ মাখা দুটি হাতের পরশ পেলে আমার দুটি হাত। নিজেকে আর যেন ধরে রাখতে পারলাম না। মায়ের একটা শাড়ী খুলে জড়িয়ে নিলাম সারা শরীরে।

মনে হলো মায়ের আদর আর শাসনের একটা চাদর জড়িয়ে ধরেছে আমায় যার প্রতিটি পরত ছুঁয়ে দিচ্ছে আমার তৃষ নান্ত মনটকে। শীতল করে চলেছে আমার বক্ষ। মায়ের সুগন্ধীর বোতলটিতে হাত পড়ল এবার মনে হল তাতেও যেন মায়ের পরশ রয়েছে ষোল আনা। মায়ের কাশমেরী সালটি মুখের উপর জড়িয়ে ধরলাম খানিকক্ষণ।

তাতেও যেন ছড়িয়ে আছে মায়ের মিষ্টি সুবাস আর সুঘ্রান। সত্যি এমন সুঘ্রান পৃথিবীর কোন সুগন্ধী তৈরী কারী প্রতিষ্ঠান আজ অব্দী এমন সুগন্ধী তৈরী করতে পারেনি। কোনদিন পারবেও না এটা। অবশেষে নজর গেল মায়ের শোকেসে। কত না স্মৃতি দোলা দিয়ে উঠল মনের গহীণে। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বের হলাম মায়ের ছায়া নিবাস হতে। প্রতি বছর এ দিনটিতেই বড় বেশী মনে পড়ে মাকে। যদিও মায়ের ছায়া সর্বদাই সাথেই থাকে আমার।

লেখক: আহসান হাবীব সকাল, নাট্যকার