২২, জুলাই, ২০১৯, সোমবার | | ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্পিকারের আহ্বান

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৯

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্পিকারের আহ্বান

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির সূর্য সন্তান, আর স্বাধীনতা বাঙালির জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনেন।’

তিনি শনিবার (৬ জুলাই) এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীন বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় ফাউন্ডেশন এ আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশবরেণ্য কৃতী সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, শিল্পী ও গুণিজনদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি।

স্পিকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক এবং অবিচ্ছেদ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসহীন নেতা। দীর্ঘ ২৩ বছর অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত হয়েছেন, তবুও মাথা নত করেননি। জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা। বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন বিশ্বসেরা অনন্য সংবিধান। কারও দান কিংবা অনুকম্পা নয়, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার এই স্বাধীনতা। জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল দর্শন।’

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানও অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নব প্রজন্মকে জানাতে হবে, তবেই তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে যুগ-যুগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার ইতিহাসের ধারণ ও লালন করে গৌরবময় স্বাধীনতাকে সমুজ্জ্বল রাখতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান, সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ, নাট্য সংগঠক রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ড. ইনামুল হক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী।

অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান, সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ বীরউত্তম, নাট্য সংগঠক রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ড. ইনামুল হক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল ও রায়ান বিন মুরাদ।