২৩, মার্চ, ২০১৯, শনিবার | | ১৬ রজব ১৪৪০

ময়মনসিংহ হাসপাতালের ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯

ময়মনসিংহ হাসপাতালের ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’

আমি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক। একা থাকি বাস্তব প্রয়োজনে। কর্মজীবনে কিছু সময় থাকে দায়িত্ববোধ ও সম্প্রসারিত পরিবারের প্রয়োজনে আপনার নিজস্ব চাহিদা গৌন হয়ে যায়। ময়মনসিংহের অফিসার মেসে একটি কক্ষে নিভৃতে একজন পরিচারকসহ আমার তিন বছর ৫ মাসের যাপিত জীবন।

আমি আমার দায়িত্ব পুরো নিষ্ঠা নিয়ে পালন করতে সচেষ্ট থাকি। সেটা ব্যক্তিগত, পেশাগত এবং সামাজিক জীবনে। দায়িত্ব অনেকভাবে পালন করা যায়। খুব আন্তরিকতা নিয়ে পালন করতে গেলেই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। আমার কর্মস্থলে আমি আমার শতভাগ দিয়েছি ওয়ান ম্যান আর্মি হিসেবে। কতটা দিয়েছি এটা মূল্যায়ন করবে বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী। অবশ্যই আমি স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য মূলত কাজ করি। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ বয়সে রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে কাজ করছি।

কিন্তু, আমরা যারা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে বেসরকারি পরিমন্ডলে কাজ করি তাদেরকে অনেক মানসিক চাপ নিয়ে ও কৌশলি হয়ে কাজ করতে হয়। কারন দুটো; সেনাবাহিনীর সন্মান ও মানুষের আস্থার জায়গায় টিকে থাকা। আমি ৩ বছর ৫ মাস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ৫৭ বছর পূর্ন হবে ৪ মাস ১৯ দিন পর অর্থাত জুলাই ৩১, ২০১৯ সালে। বাকি ১ বছর চাকরি করে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ চাইলে স্বাভাবিক অবসরে যাব। অর্থাৎ ৫৮ বছর পূর্ণ করে ইউনিফর্ম এর চাকরি থেকে অফিসিয়ালি অবসর নিব।

আমি তৃপ্ত। সেনাবাহিনী আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। একটা আলাদা জীবন বোধ তৈরি হয়েছে আমার ভেতর। আমি স্রষ্টার কাছে স্বীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এ বয়সে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে থাকা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি, কিন্তু হয়ে উঠেনি। মেয়েদেরকে ডাক্তার বানাব এবং বৃদ্ধা মাকে প্রতিপালন করছি বলে। আমার স্ত্রী অনেক বেশি কষ্ট করছে। সিভিল এরিয়ায় অনেক যুদ্ধ করেই সবাইকে দেখছে। আমি পরিবারের সান্নিধ্য পাইনি চরম প্রতিকূল অবস্থায়। ময়মনসিংহের মানুষের দোয়ার ওপর আমার এ জীবন। আসলে জীবনের জন্য কোন কিছুই অপরিহার্য নয়। আল্লাহ সবাইকে দেখেন তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী।

যাপিত জীবনের যে অধ্যায় চলে গেছে তা সুন্দর অতীত। ভবিষ্যৎ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। বর্তমানকেই আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি পরিতৃপ্ত এ জন্য যে আমি আগাছার মত বাঁচিনি। কিছু ভাল সমাজের জন্য করতে পেরেছি বলে মন সায় দেয়। কষ্টগুলো সাময়িক, অভিজ্ঞতাগুলো বড় প্রাপ্তি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ
পরিচালক
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল