২৩, মে, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৮ রমজান ১৪৪০

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা মনে করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৯

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা মনে করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের জন্য কাজ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে নবনির্বাচিত দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে।’ বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি তিনি এই নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানা গেছে।

বৈঠকের শুরুতে সবার সম্মতিক্রমে একাদশ জাতীয় সংসদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এরপর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ, সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। উন্নয়নের মাধ্যমেই সেই ঋণ পরিশোধ করা হবে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ক্ষমতাকে কেউ নিজেদের সম্পদ মনে করবেন না।’

সুখে-দুঃখে জনগণের কাছে থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা হলো, জনগণ যদি সঙ্গে থাকে, তবে কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। আপনাদের কাছে সেটাই আমার অনুরোধ—আপনারা জনগণের মাঝে থাকবেন। জনগণের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছেন, শপথ নেওয়ার পরও সেভাবেই তাদের কাছে যাবেন। সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে ভবিষ্যতে হারবেন না।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেটা আমরা অব্যাহত রাখবো।’

নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। নির্বাচন নয়, যেন তাদের লক্ষ্যই ছিল মনোনয়ন বাণিজ্য করা। এ কারণেই তারা ডুবেছে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত ১০ বছরের আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। অতীতে বিএনপির দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িতকতার বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে, সেটা অব্যাহত থাকবে। ২১০০ সালকে টার্গেট করে আমরা এ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালিত হবে। তখন যারা থাকবেন, তারা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালন করবেন একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশে।’

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখবেন, ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। তারা প্রত্যেকের নামে মামলা করতে পারে। এসব মামলা মোকাবিলা করতে হবে।’ আওয়ামী লীগের যে বিজয়, সেটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিজয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।