২২, জুলাই, ২০১৯, সোমবার | | ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

রোগী মারা গেলে হাসপাতালে হামলা-ভাংচুর না করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯

রোগী মারা গেলে হাসপাতালে হামলা-ভাংচুর না করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত

 সারাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার গুণগত মানের দিকে সোচ্চার হতে নির্দেশনার পাশাপাশি চিকিৎসায় অহবেলা বা অন্য যে কোনো কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর বা এ ধরণের কোন কার্যকলাপ না করার জন্য এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর মহাখালীর বেসরকারি হাসপাতাল ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের মামলায় মানবাধিকারকর্মী আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথার জামিন শুনানিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। এর আগে, রোগী মারা যাওয়ার পর ভাংচুর এবং বিশৃংখলা তৈরির অভিযোগে মানবাধিকারকর্মী আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথাকে কেন এজাহারভুক্ত করা হয়েছে তা লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) এমডিকে গত ২ জুলাই তলব করেন হাইকোর্ট। আজ তলবে আদালতে হাজির হন তিনি।

এদিন স্বশরীরে হাজির হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর হাইকোর্ট হাসপাতালটির এমডিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথার ৩ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের জামিন শেষ হবার পর আসামীকে নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতে রোগীর স্বজনদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট মোনসুরুল হক চৌধুরী, এডভোকেট তানজিম আল ইসলাম ও এডভোকেট রাশেদুল হক। পরে আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গুণগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি চিকিৎসায় অহবেলা বা অন্য যে কোনো কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর বা এ ধরণের কোন কার্যকলাপ না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মোঃ শহীদুল ইসলাম (৫৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। গত ১৪ মে কিডনির সমস্যা নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

গত ১৪/০৫/২০১৯ইং তারিখে জনাব মোঃ শহীদ উল্লাহ্ নামের ৫৭ বছর বয়সী (ঠিকানা: পশ্চিম স্যোশালিয়া, রামগঞ্জ, ল²ীপুর) রোগী মাল্টি অর্গাণ ফেইল্যূর সহ ভর্তি হন। চিকিৎসাকালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁর ডায়াগনোসিস হয় ESRD on MHD with Type-I respiratory failure with Acute LVF ē Bilateral Pneumonia with unstable Angina with old CVD ē H/0- DM ē HTN. হাসপাতালের পক্ষ হতে তাঁর চিকিৎসা জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাঁর স্বজনদের প্রতিদিন নিয়মিত দুই বেলা কাউন্সেলিং সহ বারবার অবহিত করেন। কিন্তু রোগীর ছেলে জনাব কামাল শুরু হতেই উশৃংখল আচরণ সহ সকলের সাথে অশালীন আচরণ ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ তাঁর বাবা মারা যাওয়ার দুইদিন পূর্বে সে হাসপাতালের একজন লেডি অফিসারের সাথে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন এবং হাসপাতালের “বিল না দিয়ে রোগী নিয়ে যাব, দেখি হাসপাতাল কি করতে পারে!? বলে হুমকি দিয়ে যান। তাঁর হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১৯/৬/২০১৯ তারিখে তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয় যার নং ৮৮১। মোঃ শহীদুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার স্বজনসহ বহিরাগতদের মাধ্যমে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে হামলা এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ ছড়ানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের স্বজন এবং বহিরাগতদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় মৃতের স্বজনসহ আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথার আগাম জামিনের আবেদন করলে শুনানি নিয়ে গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) হাসপাতালটির এমডিকে তলব করেন হাইকোর্ট।