২০, জুন, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সবুজ শিল্পায়ন: চট্টগ্রামেও লেগেছে ছোঁয়া

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

সবুজ শিল্পায়ন: চট্টগ্রামেও লেগেছে ছোঁয়া

সবুজ শিল্পায়নের জন্য ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। চামড়া ও তৈরি পোশাক খাতে স্বল্প কার্বন নিঃসরণে দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশবান্ধব ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে সবুজ শিল্পায়ন হচ্ছে। চট্টগ্রামেও লেগেছে এর ছোঁয়া।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বর্তমানে ৩৯১টি কারখানা চালু আছে । ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর পোশাক শিল্পে গতি সঞ্চার হয়। এখন নতুন করে আশা দেখাচ্ছে মিরসরাই ইকোনমিক জোন। এছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উপজেলায় কারখানা স্থাপন করছেন ব্যবসায়ীরা।

পটিয়ার ওশান স্টেট লিমিটেড, সিজার্স অ্যাপারেল লিমিটেড, আরেফিন টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড, বোয়ালখালীর রিজেন্ট টেক্সটাইল, ফিগো ফ্যাশন এবং কর্ণফুলীর খোয়াজনগরে জিএসএল এক্সপোর্ট, বেঞ্চমার্ক অ্যাপারেল, বেলামি টেক্সটাইল, এটিপি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, হ্যারডস গার্মেন্টে উৎপাদন চলছে। সবুজ শিল্পায়নের অংশ হিসেবে এসব কারখানায় নেওয়া হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা।

তবে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে সবুজ শিল্প হিসেবে গড়তে বাজেটে রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিকেএমইএ নেতারা। তারা বলছেন, পোশাকশিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সবুজ শিল্প তৈরি করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের যন্ত্রপাতি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত সুবিধায় আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া সবুজ শিল্পায়নের পরামর্শদাতার আয়কর ও ভ্যাট মওকুফ করা দরকার।

চট্টগ্রাম শহরকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়তে ১৯৯৬ সালের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করার চেষ্টাও চলছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে শিল্প উপাদান তৈরী ও কম্পোস্ট এর মাধ্যমে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের শিল্পায়নের পক্ষে নয় সরকার। এজন্য সবুজ শিল্পায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী শিল্পদ্যোক্তাদের কর রেয়াতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন শিল্পনীতিতে পরিবেশবান্ধব শিল্প উদ্যোগের প্রতি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

নগরের নাসিরাবাদ, ষোলশহর, পতেঙ্গা, কালুরঘাট, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারি, বাড়বকুণ্ড, কাপ্তাইয়ে আছে ১৪০টিরও বেশি শিল্পকারখানা। একটি তেল শোধনাগার, ৫টি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ২টি সাবান কারখানা, ৪টি রঙের কারখানা, একটি টিএসপি সার কারখানা, ২৬টি বস্ত্র কারখানা, ২টি রাসায়নিক কারখানা, ২টি সিমেন্ট কারখানা, একটি রেয়ন কারখানা, একটি ইস্পাত কারখানা, ২টি কীটনাশক কারখানাসহ প্রায় ৭৫টি কারখানা উৎপাদনে আছে। এসব কারখানার বর্জ্য যাতে পরিবেশ দূষণ করতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে আধুনিকায়ন ও বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) সংযোজনের মাধ্যমে ২টি চামড়া কারখানা চালু হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিড এক্সপো অ্যান্ড ডায়ালগ এর অনুষ্ঠানে জানান, চামড়া ও তৈরি পোশাক শিল্পখাতে সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বল্প কার্বন অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে অর্থায়ন বাড়ানোর লক্ষে সবুজ অর্থায়ন এবং সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের গুণগত মানোন্নয়নে অর্থায়নের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, শিল্পখাতে সবুজায়ন দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

বিশ্বের ১০টি প্লাটিনাম কারখানার মধ্যে বাংলাদেশেরই আছে ৭টি। সবুজ শিল্প হিসেবে বিশ্বের সেরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হয়েছে ৩টি কারখানা।

ইতোমধ্যে ২০০ থেকে ২৩০টি কারখানা সবুজ শিল্পায়নের আওতায় এসেছে। পর্যায়ক্রমে আসবে অন্যান্য কারখানাগুলোও।