২৭, মে, ২০১৯, সোমবার | | ২২ রমজান ১৪৪০

সিদ্ধিরগঞ্জে আম ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে আমের জুস

আপডেট: মে ১৪, ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জে আম ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে আমের জুস

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আম ছাড়াই আমের জুস উৎপাদনের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলায় প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা মেটাতে যে সুস্বাদু জুস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগই ভেজাল। এসব পানীয়তে আমের কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল ও রং দিয়ে জুস তৈরী করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার শিমরাইল উত্তর পাড়া এলাকায় সাদিয়া ফুড এন্ড বেভারেজ কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ নামক একটি কারখানায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-১১) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটের একটি আভিযানিক দল। এই অভিযানে ধ্বংস করা হয় প্রায় ২০ লক্ষ্য টাকার ভেজাল জুস।

এ ছাড়া নকল জুস তৈরির দায়ে কারখানার ৪ কর্মচারীকে আটক করা হয়। তারা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার নাজমুল আলম (৩৫), ক্যামিস্ট রাজন হোসেন শিকদার (২২), মো. বিল্লাল হোসেন (২৭) এবং এনায়েত হোসেন (৩৪)। ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম আটককৃতদের ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। কারখানার মালিক মো. আলমগীর হোসেন এ সময় অনুপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

কারখানার মালিক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা করা হবে বলে জানিয়ছেন র‌্যাব-১১’র অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

এদিকে আটক ৪ ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে র‌্যাব জানতে পারে; ১ লিটার জুস তৈরিতে মাত্র ২৫ টাকা ব্যায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিলাররা তার কিনে নিচ্ছে ৪০ টাকা মূল্যে। তারা আবার খুচরা ব্যবসায়িদের কাছে জুসের প্রতি লিটার বিক্রি করে ৬০ টাকা মূল্যে। আর খুচরা ব্যবসায়িরা সাধারণ জনগণের কাছে জুস বিক্রি করেন ৮০ টাকা মূল্যে।

র‌্যাব জানায়, কম খরচে বেশি লাভের আশায় নকল জুস উৎপাদন করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে আমের কোনো অস্তিত্ব নেই। ১৫ ধরণের কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল এই জুস তৈরী হয়। সোডিয়াম বেনজয়েড নামক একটি ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হয় এই জুসে।

র‌্যাবের মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, সোডিয়াম বেনজয়েড নামক কেমিক্যালটি মানবদেহের জকৃতকে বিকল করে দেয়। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি এসব নকল জুস প্রতিনিয়ত বাজারে সরবরাহ করে আসছিল।

এমন যে কোনো ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেলে সেগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।