১৮, জুন, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

থাকছে না জিপিএ-৫, চালু হচ্ছে সিজিপিএ-৪

জিপিএ'র বদলে সিজিপিএ চালুর আগে সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। অবশ্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সম্ভব হলে আগামী পাবলিক পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ এর বদলে সিজিপিএ-৪ চালু হতে পারে। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ- জিপিএ পদ্ধতি চালু হয়। এতে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর পেলে গ্রেড পয়েন্ট ৫, যার লেটার গ্রেড এ প্লাস। এভাবে এ, এ মাইনাস, বি, সি এবং ডি গ্রেড নির্ণয় করা হয়। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফল প্রকাশ করা হয় কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ- সিজিপিএ ৪-দিয়ে। ফলে এসএসসি আর এইচএসসির ফলের সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষার ফলের সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন গড়ে সব বিষয়ে ৮০-এর ওপরে নম্বর পেলে সিজিপিএ ৪ ও লেটার গ্রেড হয় 'এ প্লাস'। এরপর ৭৫ থেকে ৮০-এর মধ্যে সিজিপিএ ৩.৭৫ ও লেটার গ্রেড ‘এ’; ৭০ থেকে ৭৫-এর মধ্যে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ ও লেটার গ্রেড ‘এ মাইনাস’; ৬৫ থেকে ৭০-এর মধ্যে পয়েন্ট ৩.২৫ ও লেটার গ্রেড ‘বি প্লাস’; ৬০ থেকে ৬৫-এর মধ্যে পয়েন্ট ৩ ও লেটার গ্রেড ‘বি’; ৫৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.৭৫ ও লেটার গ্রেড ‘বি মাইনাস’; ৫০ থেকে ৫৫-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.৫০ ও লেটার গ্রেড ‘সি প্লাস’; ৪৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.২৫ ও লেটার গ্রেড ‘সি’; ৪০ থেকে ৪৫ নম্বর পেলে পয়েন্ট ২ ও লেটার গ্রেড ‘ডি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ৪০-এর কম নম্বর পেলে ফেইল, এর লেটার গ্রেড ‘এফ’, এতে কোনো গ্রেড পয়েন্ট নেই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিজিপিএ বিন্যাসকে ভিত্তি ধরেই পাবলিক পরীক্ষার জন্য সিজিপিএ পুনর্বিন্যাসের চিন্তাভাবনা চলছে। আর বিষয়টি ইতিবাচক হলেও হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না বলে মত শিক্ষাবিদদের। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, 'এটা করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে, তবে একটু সময় দিয়ে করা উচিত'। একই সাথে, পাবলিক পরীক্ষায় সিজিপিএ-৪ হলে, এখন যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদের জন্যে কি ব্যাবস্থা হবে সেটি বিবেচনায় রাখতেও তাগিদ দেন তিনি। অন্যদিকে, গবষণ, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যদি এটা করা হয় তবে এটাতে ভাল মনে করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। এ প্রদ্ধতি বাস্তবায়নের আগে শিক্ষক, অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলেও মত তার। অধ্যাপক এম এ মান্নান এবং রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে একমত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক-ও। তিনি বলেন, 'শিক্ষার সাথে সম্পর্কযুক্ত সবার সাথে, বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্তে আসবো। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি কাজটি করতে চাই। প্রথমত সিজিপিএ’র স্কেলিংটা নির্ধারন করতে হবে। তারপর যদি সকলেই মনে করেন এটি জেএসসি থেকে শুরু করা যায়, তবে আমরা জেএসসি থেকেই কাজটা শুরু করব'। এক মাসের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে খসড়া উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত বুধবার আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সিজিপিএ পদ্ধতি চালুর জন্য একটি খসড়া উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।