২৪, মে, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৯ রমজান ১৪৪০

পানি সংকটে ভুগছেন দক্ষিণ মুগদার বাসিন্দারা

দক্ষিণ মুগদার প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা কয়েক মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন। ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করলেও কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার পানির সংকট নিরসের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১ এর আওতাধীন দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনির প্রায় শতাধিক বাড়ি রয়েছে। ব্যাংক কলোনি সড়কের ১/৩৭/বি থেকে ১/৫৯/এ-৪ নম্বর পর্যন্ত হোল্ডিংয়ের বাসিন্দারা প্রায় একযুগ ধরে পানির কষ্টে ভুগছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই এলাকার পানি সংকটের প্রধান কারণ হচ্ছে; ওই সড়কের প্রায় ১ হাজার ৫০ ফুট পাইপটি উঁচু-নিচু। এছাড়া তাপদাহ বাড়ায় নগরে পানির চাহিদা বেড়েছে, এ কারণে ওই এলাকার উঁচু-নিচু পাইপে পানি পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পানি নিয়ে নেয়। মূলত এ কারণেই ওই এলাকার পানি সংকট। দিন দিন পানি সংকট তীব্র হলেও ঢাকা ওয়াসা ওই এলাকার পানি সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ মুগদাপাড়ার শাহাবুদ্দিন-আছিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদুল কবির জাকির যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে দক্ষিণ মুগদাপাড়ার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকট ভুগলেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ঢাকা ওয়াসা।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় এ এলাকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। বাসা-বাড়িতে পানিই থাকে না। এ বছর অন্যান্য বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে। পানির অভাবে রোজার মাসে গোসল ইফতার-সেহেরিতে সীমাহীন ভোগান্তি মাড়াতে হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলামিন যুগান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণ মুগদাপাড়ায় পানির কিছুটা সংকট রয়েছে। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে রয়েছে; আমরা সে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। চাহিদা বাড়ায় তারা কখনো পানি পাচ্ছে এবং কখনো পাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই এলাকার পাইপ লাইন কিছুটা উঁচু-নিচু হওয়ায় ওই এলাকায় পানি পৌঁছানোর আগেই অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা পানি সংগ্রহ করে নেয়, ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা মাঝেমধ্যে পানি পায় না। তবে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।’ প্রসঙ্গত, ঢাকা ওয়াসার তথ্যমতে, প্রায় দুই কোটি নগরবাসীর দৈনিক পানির চাহিদা ২৩০ কোটি লিটার। কিন্তু, উৎপাদন সক্ষমতা ২৪৫ কোটি লিটার। তবে লোডশেডিং, জেনারেটরের অকার্যকারিতা এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কখনো কখনো পানির উৎপাদন কম থাকে। আর চাহিদার ৭৮ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসে। আর বাকি ২২ শতাংশ পানি সংগ্রহ করে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। আর সেটা করা হয়, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পানি শোধন করে। নগরীর বেশ কিছু এলাকায় এসব পানি সরবরাহ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সায়েদাবাদ-১, সায়েদাবাদ-২, সায়েদাবাদ-৩ ও চাঁদনীঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্প। এছাড়া ৭৩০টি গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি নগরবাসীর মাঝে সরবরাহ করা হয়। এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী দুটির পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। তাই শোধন করার ক্ষমতা কমেছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পানি উত্তোলনে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলনও কমেছে।