৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

লাগামহীন বাড়ছে খেলাপি ঋণ

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ২৮, ২০১৯

লাগামহীন বাড়ছে খেলাপি ঋণ

সিএনআই ডেস্ক:  নানা পদক্ষেপের পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না, বরং তা আরও বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। ফলে এই মুহূর্তে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১২ শতাংশ। আর গত জুন এর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এছাড়া গত নয় মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা।

এ দিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হিসাব দিলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), স্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকারেরা বলছেন, প্রকৃত হিসেবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এর থেকে আরও অনেক বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব মতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। যা ছিল মোট ঋণের প্রায় ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এ দিকে, জুন পর্যন্ত আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছেন ৬৭৫ জন ঋণগ্রহীতা। ঋণ খেলাপি হিসেবে তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) উল্লেখ করা হয় না। এমন ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৯ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। সরকারের নির্দেশে বারবার এমন ঋণ পুনঃতফসিল করারও উদাহরণ আছে। এর মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল। এমন বিশেষ নির্দেশিত ঋণের পরিমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে প্রায় ২৭ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করে দিয়েছে।

এসব হিসাবে একত্র করলে বাংলাদেশে বর্তমানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। আর আইএমএফ সরকারের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে এসব ঋণ অন্তর্ভুক্ত করার পরেই খেলাপি ঋণের হিসাব করতে বলেছে।

আন্তর্জাতিক এই ঋণ সংস্থাটি ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের আর্থিক খাত পর্যালোচনা করে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের আমন্ত্রণেই আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল দুই দফায় আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশে এসেছিল। প্রথমে চলতি বছরের এপ্রিলে, এরপর গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসে আইএমএফের ওই প্রতিনিধি দল। এ সময় পর্যালোচনা শেষে প্রতিনিধি দলটি ৪৩টি সুপারিশ করেছে। মোট ৬৮ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের নানা অব্যবস্থাপনা ও সংকটের খোলামেলা আলোচনাও করা হয়েছে।

দুই দফা পর্যালোচনার পর বাংলাদেশের আর্থিক খাত বিশ্লেষণ করে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ আড়াল করে রাখা হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি দুর্বল এবং ব্যাংক পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের আচরণও বেপরোয়া। এমনকি নিয়ম ভাঙলে শাস্তিও পান না তারা। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ও বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ দিকে, বুধবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যেই তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের প্রায় ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

লাগামহীন খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল করার যেই বিশেষ সুযোগ দিয়েছে তা বর্তমান সময় পর্যন্ত চলমান রয়েছে। আশা করি, আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।