১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

শেরপুরে আইন মেনে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার নির্দেশ

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২, ২০১৯

শেরপুরে আইন মেনে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার নির্দেশ

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরে বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোতে চলতি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মালিকদের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের তুলশীমালা ট্রেনিং সেন্টার কাম সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের সভাপতিত্বে ওইসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে মালিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেইসাথে তা না মানলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়। ওইসময় জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের নির্ধারিত আইন মেনেই ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা করতে হবে। পরিবেশ বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়া কোন ক্লিনিক, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল অনুমোদন পাবে না। তাই ওই বিষয়ে ক্লিনিক-হাসপাতাল মালিকদের সচেতন হতে হবে এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের বিদ্যমান আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

সভায় নবাগত সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুর রউফ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন নিয়ে এবং আইন মেনে ক্লিনিক-প্রাইভেট হাসপাতাল চালাতে হবে। আমরা কোন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালকে নিরুৎসাহিত করি না। কারণ সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত সময়ের পরে তারাও সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসার নামে কোন অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা মানা হবে না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় ১০৩টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। এগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল সাপেক্ষে অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে একই সভায় অনলাইনে আবেদনে নানা জটিলতাসহ কিছু সমস্যা তুলে সেগুলো শিথিল ও সহজলভ্যকরণে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন জেলা বিএমএ সভাপতি ও জেলা বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এমএ বারেক তোতা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর প্যানেল মেয়র আতিউর রহমান মিতুল, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, সাংবাদিক দেবাশীষ সাহা রায় প্রমুখ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোবারক হোসেন। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) এটিএম জিয়াউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম এহছানুল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তোফায়েল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নমিতা দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম, জেলা স্বাচিপের সভাপতি ডাঃ মামুন জোস, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক-প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেরপুর শহরের ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারকালে নবজাতকের অঙ্গ কেটে প্রাণহানির ঘটনায় একাধিক খবর প্রকাশে পাশাপাশি ১০ নভেম্বর জেলায় অনুমোদনবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি নিয়ে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমে ‘শেরপুরে অনুমোদনবিহীন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিকের ছড়াছড়ি-চিকিৎসার নামে রমরমা বাণিজ্য : ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণায় হয়রানীর শিকার রোগীরা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই খবরে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ অঙ্গনসহ শহরে তোলপাড় সৃষ্টি হলে পরদিন শেরপুরে বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনোস্টিক সেন্টার পরিচালনায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করতে জেলা আইন-শ্খৃলা কমিটির মাসিক সভায় সরগরম আলোচনার প্রেক্ষিতে দ্রæততম সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ সভা আহবানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।