২৩শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার
২৭শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কলেরার স্যালাইন থাকলেও দেয়া হচ্ছে না রোগীদের

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১৪, ২০২০

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কলেরার স্যালাইন থাকলেও দেয়া হচ্ছে না রোগীদের

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:  চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা স্যালাইন পাচ্ছে না। হাসপাতালে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীদের কেন দেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে জনমনে জন্ম নিচ্ছে নানা রকমের প্রশ্ন। সরকারি স্যালাইনের পাশাপশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজণৈতিক ব্যাক্তিরা হাসপাতালে স্যালাইন অনুদান দেয়ার পরও স্যালাইন সংকট হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। আর এ স্যালাইন সংকটের কারনে দরিদ্র ও অসহায় গরীব রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। গতকাল সোমবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলো
৬৫ জন রোগী।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে আসনসংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের সমস্যা সৃষ্টি হলেও কলেরার স্যালাইন না পাওয়ার কারনে তারা সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে । সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে দরিদ্র , অসহায় ও খেটে খাওয়া সাধারণ রোগী ও তার পরিবারের লোকজন। গতকাল সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে এ রকম চিত্র। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনিরামপুর বিশ্বাসপাড়ার জাহাঙ্গীরের দুই বছর বয়সী মেয়ে আলভিনার ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিইয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আলমডাঙ্গার জেহালা ইউনিয়নের জেহালা মাঝেরপাড়ার নাঈম ইসলামের মেয়ে ১৪ মাস বয়সের নাজমীন ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ মানিকদিহি পাড়ার আব্দুল খালেকের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাদের নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে ভর্তিও পর থেকে তারা হাসপাতাল থেকে কলেরার কোন স্যালাইন না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। শুধু তাইনা, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি সকল রোগীর স্বজনদের একই কথা, তারা সরকারি স্যালাইন পাচ্ছেন না। সবই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী মহলের অনেকেই বলেন, প্রতি বছর সরকারি ভাবে কলেরার স্যালাইন বরাদ্দ পাওয়ার পরও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও সমাজের সচেতন ব্যাক্তিরা লক্ষ লক্ষ টাকার কলেরার স্যালাইন অনুদান দেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। তার পরও কলেরার স্যালাই সংকট কেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কলেরার স্যালাইনের খবর জানতে হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবীরের মুঠো ফোনে কল করলে তিনি বলেন, আমাদের কাজে এখনও কলেরার স্যালাইন মজুত আছে।
এদিকে, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও ইনচার্জ না পাওয়ার কারনে অন্যান্য সবার কাছে
কলেরার স্যালাইনের খোঁজ নিলে তারা বলেন, অনেকদিন ধরে কলেরার স্যালাইন বন্ধ আছে। তারা
আরও বলেন, আমাদের কাছে যদি স্যালাইন না দেয়া হয় তাহলে আমরা কোথা থেকে দিবো।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।