সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

জন্মের ১৮ বছরেও বাবার স্বীকৃতি পায়নি সন্তান!

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০

জন্মের ১৮ বছরেও বাবার স্বীকৃতি পায়নি সন্তান!
মহেশখালী প্রতিনিধিঃ ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। পিতৃস্নেহ চ্যুত অনাদরে বেড়ে ওঠা কোন সন্তানেরই বা সয়..? আবদুল হাকিম বয়স ১৮’র কাছাকাছি। মা মাজেদা বেগম। সাগরে মাছ ধরার নৌকায় মজুরি করে মা-ছেলে দু’জনের কোনমতে দিন চলে। পরের আশ্রয়ে কখনো আত্মীয়ের কখনো প্রতিবেশির বাড়িতে কেটেছে দীর্ঘ ১৮টি বছর। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে মায়ের মুখে বাবার নাম শুনেছেন। তার চোখের সামনেই রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িতে থাকেন তিনি। ওই ইউপির (২নং ওয়ার্ড)‘র বর্তমান মেম্বার হওয়ায় এলাকায় প্রচুর প্রভাব তাঁর। এজন্য সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন জনের কাছে ধর্না দিয়েও এ প্রভাবশালীর সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি হাকিম।
প্রিয় পাঠক এটা কোন রূপকথার গল্প নয়। গল্পকে হার মানানো চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়ায়।  জানা গেছে, বিগত ১৯৮৬ সালে উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া (২নং ওয়ার্ড)‘র দিন মজুর মৃত আবুল কাসেমের মেয়ে মাজেদা বেগমের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের বাঁকখালী এলাকার মকবুলের সাথে। নিয়তির নির্মমতায় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তাদের সংসার জীবন। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে স্বজনসহ স্বামী সংসার হারান অভাগী মাজেদা। এরপর থেকেই পেটের দায়ে বাপের বাড়ি আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া এলাকায় এ-বাড়ি ও-বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে দিনাতিপাত করতেন এ স্বামী পরিত্যক্তা।  আবদুল হাকিমের মা মাজেদা বেগম জানান, ১৯৯২ সাল থেকে অস্থায়ী কাজ করলেও ৯৬ সালে প্রতিবেশি দুঃসম্পর্কের চাচা মোঃ নাজের সিকদারের বাড়িতে স্থায়ীভাবে ঝিয়ের কাজ নেন। দিনে যাবতীয় কাজকর্ম সেরে ওই বাড়িতে রাত কাটাতেন তিনি।
এতে মোটামোটি ভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল তার। কয়েক বছর পর অর্থাৎ ২০০১ সালে বাড়ির মালিক মোঃ নাজেরের ছেলে আবদুল হালিমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। প্রেমের সম্পর্ক একসময় শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর তার গর্ভে সন্তান চলে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। গর্ভপাতের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ আসতে থাকে আবদুল হালিমের পরিবার থেকে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও গর্ভের সন্তানের বয়স বেশি হওয়ায় গর্ভপাত আর হয়নি। পরে বাপের বাড়িতে গিয়ে ছেলে সন্তান প্রসব করেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় হইচই পড়ে গেলে বাবা আবদুল হালিমের নামের সাথে মিল রেখেই ছেলের নাম রাখা হয় আবদুল হাকিম। তিনি আরো জানান, আবদুল হাকিমের জন্মের পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে সাড়ে ৩ বছর পর্যন্ত যাবতীয় ভরনপোষণ চালিয়েছেন আবদুল হালিম। এখন হাকিমের বয়স ১৮ বছর।
এরপর থেকে ছেলের আর খবর রাখেননি বাবা আবদুল হালিম।  আবদুল হাকিম বলেন, ‘এখন আমি বড় হয়েছি। আমি আমার পিতৃ পরিচয় চাই। আমার অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে আদালতের শরনাপন্ন হবো। এদিকে এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আলহাজ্ব আবদুল হালিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,  ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তারা স্থানীয় কুচক্রীমহলের প্ররোচনায় আগেও আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছে এখনও করছে।’


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।