১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার
৮ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রংপুরে চীন ফেরত শিক্ষার্থী করোনা ইউনিটে ভর্তি, ১২সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

রংপুরে চীন ফেরত শিক্ষার্থী করোনা ইউনিটে ভর্তি, ১২সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

রংপুর ব্যুরো:  চীন ফেরত আনহুই ইউনিভার্সিটি এন্ড টেকনোলোজির সিভিল বিভাগের শিক্ষার্থী তাশদীদ হোসেনকে শনিবার বেলা ১ টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসুলেশন বিভাগের করোনা ইউনিটে
ভর্তি করা হয়েছে।সিভিল সার্জন ডা:হিরম্ব কুমার রায় জানিয়েছেন প্রাথমিক ভাবে করোনা আশংকা করছি, বিশেষজ্ঞ টিম ডাকা হয়েছে,তাদের রিপোট আসলেই বোঝা যাবে সে করোনা আক্রান্ত কিনা। তাশদীদের বাড়ি নীলফামারীর ডোমারের মির্জাগঞ্জ এলাকায়।

রংপুর মেডিকেলে ভর্তি চীন ফেরত শিক্ষার্থীর করোনা ভাইরাস সনাক্তে ১২ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠিন,চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ। চীন ফেরত শিক্ষার্থি তাশদীদ হোসেনকে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের আশংকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ চলছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম রংপুরে এসে রোগীর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঘাম,লালা,রক্ত,কফ ইত্যাদি নিয়ে গেছেন।এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.দেবেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বিশেষজ্ঞ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।ডা. দেবেন্দ্র নাথ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত ভালো।তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি।তবে ঢাকা থেকে চুড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞ টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন-অধ্যাপক ডা:মো:মাহাফুজার রহমান,উপধ্যক্ষ,মেডিকেল কলেজ রংপুর।ডা:মো:আশরাফুল হক সহযোগি অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ,ডা:এম এ ওহাব,সহযোগি অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ।ডা:মো:শফিউল আলম,সহযোগি অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ।ডা:তাপস বেস সহযোগি অধ্যাপক।ডা;শরিফুল ইসলাম সহযোগি অধ্যাপক।ডা:কামরুজ্জামান সরকার সহযোগি অধ্যাপক।ডা;মো:আবদুল মোকাদ্দেম সহকারী পরিচালক।

ডা:মো:এমদাদুল হক সহযোগি অধ্যাপক।ডা:সকুমার মজুদার সহযোগি অধ্যাপক এবং ডা:নারায়ন চন্দ্র সরকার সহকারী অধ্যাপক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রংপুর। তাশদীদ হোসেনের পিতা আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, তার পুত্র তাশদীদ হোসেন রংপুর সরকারী পলিটেকনিক্যাল কলেজ থেকে সিভিলে ডিপ্লোমা পাশের পর বিএসসিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য চীনের আনহুই প্রদেশের আনহুই ইউনিভার্সিটি এন্ড টেকনোলোজিতে সিভিলে ভর্তি হয় আড়াই বছর আগে। ষষ্ঠ সেমিস্টার শেষে তাদের ভ্যাকেশন চলছিল । এরই মধ্যে চীনে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বাংলাদেশী শিক্ষার্থী চলে আসে। আমার ছেলে তার দুই সহপাঠি কুমিল্লা ও চট্রগামের দুইজনসহ ২৯ জানুয়ারী ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে রাত বারোটায় নামে।তখন চট্রগামের ছেলেটির জ্বর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে কুর্মিটোলা হাসাপাতালে নেয়া হয়।

তিনদিন পর তাকে সেখানে থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।আমার ছেলে অপর বন্ধুসহ রাতে হোটেলে থেকে ৩০ জানুয়ারী নীলসাগর ট্রেন যোগে বাড়িতে আসেন। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা সিভিল সার্জন ও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমার বাড়িতে আসেন, এবং তার শরীরের খোঁজ খবর রাখতে থাকেন। সে ভালো ছিল। এরই মধ্যে গত বুধবার থেকে আমার ছেলের শ্বাস কস্ট শুরু হয়। সাথে সামান্য জ্বর ছিল।একারণে শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে আসি।তখন হাসাপাতালের সহকারী পরিচালক তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি কারান।প্যারাসিটামলসহ কিছু ওষুধ দিয়েছেন। সেগুলো খাওয়াচ্ছি। কর্তৃপক্ষ বলছেন ঢাকায় জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে চিকিৎসকরা এসে তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করাবেন। তবে সন্ধা পর্যন্ত তারা আসেন নি। আমি আশা করি আমার ছেলের করোনা ভাইরাস হয়নি।

এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক(প্রশাসন) ডা মোকাদ্দেম হোসেন জানান,বেলা ১ টা ৫ মিনিটে আমরা তাশদীদকে আইসুলেশন বিভাগের করোনা ইউনিটে ভর্তি করেছি। তার শারীরিক কন্ডিশনের বিষয়ে ঢাকায় আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা বলবেন এবং চিকিৎসা শুরু হবে।

অন্যদিকে সন্ধায় করোনা ইউনিটে আসেন রংপুর জেলা সিভিল সার্জন রিম্ব কুমার রায়। তিনি জানান, চীন ফেরত ওই শিক্ষার্থী তাশদীদ প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আমরা ভর্তি নিয়ে ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি। ঢাকা থেকে ৬ সদস্যের একটি টিম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম রওনা দিয়েছেন।তারা আসার পর বিষয়টি বোছা যাবে- করোনা ভাইরাস কিনা।

সহপাঠি মেহেদী হাসান জানান,তাজদীদের করোনা ভাইরাস আছে কিনা এ বিয়ষে এখনোও বলা যাবে না।তবে সরকারের সিদ্ধান্ত মতেই আমরা চীন থেকে দেশে ফিরেছি আর এ কারনে মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশে আসার পর সে সুস্থ ছিল। কিন্তু  হঠাৎ কয়েকদিন থেকে অসু¯’ বোধ করায় সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এ আশঙ্কায় রংপুর মেডিকেলে এসে ভর্তি হয়েছে। তার মানষিক প্রশান্তির জন্যই তাকে ভর্তি করা হয়েছেু। তাজদীদ এর পিতা বলেন,তার চীন ফেরত শিক্ষার্থি পুত্র তাজদীদ হোসেনকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রংপুর মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য আনা হয়েছে।তিনি বলেন,শনিবার দুপুরে আইসলিশন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।এখন তার শরীরের অবস্থা ভালো আছে। এদিকে করোনা ইউনিটে কোন বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নেই।স্যাত স্যাতে পরিবেশ সেখানে। এতে ক্ষোভ
প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।