২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বুধবার
১লা রজব, ১৪৪১ হিজরী

ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী দুই ভাই

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী দুই ভাই

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। এ কথাটি আবারো প্রমাণ করল গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুই শিক্ষিত যুবক। উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ধনারপাড়া ও চন্দিয়া গ্রামে বেকারত্ব ঘোচাতে আপন দু’ভাই জিল্লুর রহমান ও জুলফিকার রহমান জনি শুরু করেছে গাদা ফুলের চাষ। ইতিমধ্যে ফুল চাষ করে এখন তারা স্বাবলম্বী।

বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত ফুলছড়ি উপজেলা। এ উপজেলাতে এই প্রথম গাদা ফুল চাষ করে তারা পেয়েছেন সফলতা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা আর প্রতিবন্ধকতা পার করে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়েছে জিল্লুর ও জুলফিকার রহমান। সবজিসহ অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে ফুল চাষে পরিশ্রম কম ও লাভ বেশি হওয়ায় তারা ফুল চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

২০১৯ সালে কঞ্চিপাড়ার চন্দিয়া গ্রামে ১০ শতাংশ জমিতে চাষ শুরু করলেও এখন ৮০ শতাংশ জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। জুলফিকার এর বড় ভাই জিল্লুর রহমান যশোর থেকে ৩ হাজার টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিচ চারা কিনে এনে ১০ শতাংশের লভাংশ টাকা দিয়ে আরো ১০ শতাংশ জমি কিনে মোট ২০ শতাংশ জমিতে চারাগুলো রোপন করেন। ফুলের মৌসুমে একবার ফুল ধরলে তার ভরা যৌবন থাকে ২ মাস। এর পর আসতে আসতে তার যৌবন শেষ হয়। ভরা যৌবনে ফুলগুলো অনেক বড় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে লাভ হয় ৩৫ হাজার টাকা।

জিল্লুর রহমান জানান, ধানের থেকে ফুলে বাগানে পরিচর্যা কম হয়। শুধু তাই নয়, ধানের থেকে ৩ গুন বেশি লাভ হয় ফুলে। অন্য সব জেলার থেকে আমাদের বাগানের ফুল সব থেকে ভাল হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও পর্যাপ্ত। গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন ফুলের দোকানদার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানেও আমরা ফুল পাইকারি বিক্রি করে থাকি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারি না ঠিকমত। ফুল চাষ করতে হলে ফুল ও নার্সারি বিষয়ে ট্রেনিং ও জ্ঞান থাকা দরকার। তবে আমার নার্সারি বিষয়ে ট্রেনিং নেয়া আছে। আগামী রেইন সিজিনিংয়ে আমার ৬০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাব গ্লাডিউলাস এর চাষ শুরু করব। এখন ২০ শতাংশ জমিতে গাদা ফুলের পাশাপাশি রংপুর থেকে কাঠবেলি ফুল এর চারা এনে লাগিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ফুল চাষের জন্য উর্বর জমি দরকার। সামনে আমি আরো জমি কিনবো। ফুল চাষ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে উঠে আসা দরকার। ফুল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। চাকুরি করে উপরে উঠা সম্ভব না। আমরা যারা শিক্ষিত ছেলে আছি- তারা অহেতুক চাকরীর চেষ্টা না করে অল্প সংখ্যক পুজি ব্যবহার করে উপযুক্ত জায়গা বেছে নিয়ে সবার আত্বপ্রচেষ্টায় ফুল চাষ করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আমার ফুল চাষের জন্য ফুলের চারা ও সেচ সরঞ্জামাদিসহ বিভিন্ন উপকরণ এর দরকার। তিনি এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কনা ফুল ঘরের স্বত্তাধিকারী আনারুল জানান, গাইবান্ধা জেলার বাহিরের অন্য জেলার থেকে ফুলছড়ির ধনারপাড়া গ্রামের ফুল অনেক বড় ও ভাল। ফুল চাষ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মো: মাকসুদুর রহমান জানান, ফুলছড়ি উপজেলায় ফুল চাষের বিষয়টি আমার জানা নেই। ফুল চাষ একটি ভাল উদ্যোগ ও লাভজনক ব্যবসা। ফুলচাষসহ বিভিন্ন কৃষকদের জন্য আমাদের সহযোগীতা রয়েছে। আমরা সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করে থাকি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।