২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বুধবার
১লা রজব, ১৪৪১ হিজরী

তিন সন্তান জন্ম দিয়ে বিপাকে হতদরিদ্র পরিবার!

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

তিন সন্তান জন্ম দিয়ে বিপাকে হতদরিদ্র পরিবার!
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একবারেই ৩ সন্তান জন্ম দিয়ে বিপাকে রয়েছে হতদরিদ্র এক দম্পতি। অভাব অনটনের এই সংসারে রয়েছে তাদের আরও ২ সন্তান। মোট ৫ সন্তান নিয়ে ৭ জনের সংসারে টানাপরেনের মধ্যেই চলতে হয় তাদের। ৫ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন ওই দম্পতি।
স্থানীয়রা জানায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার সাতানীপাড়া গ্রামের হত দরিদ্র পরিবার আনিছুর রহমান (হারেছ) এবং স্ত্রী শেফালী বেগম (২৬) এর ২ ছেলে রিপন (১০) ও সাকিব (২)। এরই মাঝে তাদের কোলে আসে আরও ৩ ছেলে-মেয়ে। নবজাতক এই তিন সন্তানের নাম রেখেছেন আব্দুর রহিম, রহিমা খাতুন ও ফাতেমা খাতুন। যাদের জন্ম একই দিনে। ২ সন্তান নিয়েই অতিকষ্টে যাদের জীবন-যাপন, সেখানে আবার ৩ সন্তানের জন্ম হওয়ায় তাদের ভরনপোষন নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
জানা যায়, আনিছুর রহমান হারেছ একজন দিন মজুর এবং স্ত্রী শেফালী বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করে কোনোমতে সংসার চলে তাদের। ভবিষ্যতে ৫ সন্তানের খাওয়া, পোশাক পরিচ্ছদ, লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ বহন করা তাদের জন্য আকাশ ছোঁয়ার মতো।
আনিছুর রহমান জানায়, আল্লাহ তা-আলা তাকে একবারে ৩ সন্তান দান করেছেন। তাদের খাওয়া-পরা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। অভাবের সংসার থেকে দুধ কিনে খাওয়াটাও তার সাধ্যের বাইরে। তাতে আবার শীতের সময়। ছেলে-মেয়েদের ঠান্ডাজনিত রোগ ব্যাধিতে পড়তে হয়। চিকৎসাব্যয় করতেও পারছেন না তিনি।
শেফালী বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আল্লাহ আমার সংসারে একবারে তিনটি সন্তানসহ ৫জন ছেলে-মেয়ে দিয়েছেন এজন্য শুকরিয়া। কিন্তু একে একে তিন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে মহা মুশকিলে পড়তে হয়। এজন্য আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া-আমাদেরকে যেনো এই দুঃখ কষ্ট সওয়ার শক্তি দেন।
এছাড়াও অসহায় ওই দম্পতি আক্ষেপ করে জানায়, পরিবার পরিজন নিয়ে এত অভাব অনটনের মাঝে থেকে পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পান না তারা।  এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রোস্তম আলী জানান, পৌরসভা থেকে কোনো প্রকার সুযোগ পেলে তাদেরকে সহায়তা করা হবে।

 


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।