২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার
২৫শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ওবায়দুল কাদেরকে ফোন দিয়ে যা বললেন ফখরুল

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

ওবায়দুল কাদেরকে ফোন দিয়ে যা বললেন ফখরুল

সিএনআই ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে টেলিফোন করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমার সঙ্গে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি বলি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের। এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে তারা লিখিত কোনো আবেদন পাননি। তারা (বিএনপি) শুধু মুখে মুখেই মুক্তির কথা বলছেন, কিন্তু লিখিত কোনো আবেদন করেননি। এটি দুর্নীতির মামলা। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার বিবেচনা করতে পারত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বারবার সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি বা প্যারোলে মুক্তি চাচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকার বিষয়টি তখনই বিবেচনা করতে পারত, যদি সেটি রাজনৈতিক হতো।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) প্যারোলের জন্য আবেদন করলে কী কী কারণে প্যারোল চান তা আবেদনে উল্লেখ করতে হবে। সেটি নিয়মের মধ্যে পড়ে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি নেতারা রাজনীতি করছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মেডিকেল বোর্ড যে রিপোর্ট দেবে তা আদালতের কাছে পৌঁছাতে হবে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নেতারা যেভাবে বলেন, দায়িত্বরত ডাক্তাররা সেভাবে বলেন না।

খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার মানবিক আচরণ করবে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকার এতটা অমানবিক আচরণ করবে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয় আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যদির কথা যদি; সেটি পরে দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, তারা যদি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে, আবেদনে উল্লেখ করা কারণের সঙ্গে প্যারোলে মুক্তির কারণ মিলে কিনা সেটি কর্তৃপক্ষ দেখবে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে তার কারাজীবনের দুই বছর কেটে গেছে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত বছরের ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার ৬ স্বজন তাকে হাসপাতালে দেখে আসেন। বেরিয়ে এসে তারা জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশ নিয়ে যেতে চান। এ জন্য প্যারোলে মুক্তি দিলে তাতে তাদের আপত্তি থাকবে না। অবশ্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপি নেতারা দ্বিধাবিভক্ত।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।