৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং, সোমবার
৬ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

নিম্নমানের তামাক ও কাঠের ভুষি দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

নিম্নমানের তামাক ও কাঠের ভুষি দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

গাইবান্ধার প্রতিনিধিঃ নিম্নমানের তামাক, তামাকের পরির্বতে বিভিন্ন গাছের পাতা ও কাঠের ভুষি মিশ্রিত করে বিড়ি বানিয়ে গাইবান্ধার প্রত্যান্ত গ্রাম অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি করছে একটি চক্র। প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলকে টার্গেট করে সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের এসব বিড়ি বাজারে অল্প দামে বিক্রি করছে চক্রটি। কিছু না বুঝে কম দামে পেয়ে, এসব বিড়ি খেয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ। এটি গুরুত্বর অপরাধ জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

নিম্নমানের বিড়িতে ভরে গেছে গাইবান্ধার গ্রামঞ্চলের হাটবাজারগুলো। প্রত্যান্ত গ্রামঞ্চল ও জেলার চরাঞ্চলে তামাকের পরির্বতে বিভিন্ন গাছের পাতা ও কাঠের ভুষি মিশ্রিত করে বিড়ি বানিয়ে, সরকারি লেভেল ছাড়া হাট-বাজরে কমদামে বিক্রি করছে একটি চক্র। কম দামে কিনে বেশি লাভ হওয়ায় এসব কথিত ব্যান্ডের বিড়ি বিক্রিতে
আগ্রহী হয়ে উঠছেন ব্যবসায়ীরাও।

আর কিছু না বুঝে, কমদামে হাতের কাছে পেয়ে নিম্নমানের এসব বিড়ি খেয়ে ক্যান্সার,  ব্লাড প্রেসার, হুপিং কাশিসহ নতুন নতুন বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব এলাকার নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। সদরের মালিবাড়ি, দারিয়াপুর, কামারজানি, সুন্দরগঞ্জের পাচঁপীর, বেলকা, ধর্মপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় রমরমা এসব বিড়ি বিক্রির চিত্র। দীর্ঘদিন থেকে প্রকাশ্য এসব কারবার চললেও প্রশাসনিক কোন তদারকি নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। এলাকাবাসী বলছে, এ চক্রটি বিপুল পরিমান সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাজারে এসব নিম্নমাণের বিড়ি বিক্রি করছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাটি কাটা শ্রমিক রেজাউল ইসলাম জানান, বিড়ি খাই আর কাজ করি। বিড়ি না খেলে কাজে মন বসে না। এখন বিড়ির মধ্যে ভেজাল মিশায় আমরা কিভাবে বুঝবো। বালাসী ঘাটের মুদি দোকানদার জসিজল বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন এসে দোকানে দোকানে বিড়ি বিক্রি করছে। তারা প্রচার করছে ভালো বিড়ি। কিন্তু খাওয়ার পর বুঝতে পারে বিড়ি দুই নম্বর।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ বলেন, এই ধরণের পণ্য সেবনের ফলে ক্যান্সারসহ মারাত্বক সব রোগ মানবদেহে জন্ম নিতে পারে। দ্রুত  সামাজিক সচেতনা সৃষ্টি করার আহবান জেলা সিভিল সার্জনের।
আর মানহীন ও ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি করা অপরাধ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস গাইবান্ধা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর। এদিকে সরকারি রোল ছাড়া কোন তামাকজাত দ্রব বিক্রি আইনগত অপরাধ। বিয়ষটি নজরে ছিল না জানিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মতিন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।