সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং

একই শরীরে দুই বোন, একজন অঙ্ক পড়ান, অন্যজন ইংরেজি

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

একই শরীরে দুই বোন, একজন অঙ্ক পড়ান, অন্যজন ইংরেজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯০ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্মানির মিনেসোটায় জন্ম নেন অ্যাবিগেইল এবং ব্রিটনি। একই শরীরে আলাদা চিন্তাভাবনা, খাদ্যাভ্যাস তাদের। সম্পূর্ণ দু’জন আলাদা মানুষ।

বিশ্বখ্যাত সেই দুই বোনের ছোট থেকে বড় হওয়া ছিল গল্পের মতো। তাদের মা প্যাটি হেনসেল যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তিনি জানতেন তার শরীরে একটি ভ্রূণই বেড়ে উঠছে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে যমজ সন্তান উপহার দেন। অ্যাবি এবং ব্রিটনি-দুই বোন।

দুই শিশুই জোড়া। বাইরে থেকে তাদের শুধু মাথা আলাদা। সাধারণত এ রকম সন্তান খুব বেশি দিন বাঁচতে পারে না। চিকিৎসকরা প্যাটিকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করে তাদের আলাদা করে দেওয়া হবে।

তবে সে ক্ষেত্রে যে কোনো একজনকে বাঁচাতে পারবেন তারা। মায়ের মন তাতে রাজি হয়নি। কোনো সন্তানকেই প্যাটি হারাতে চাননি। স্বামীর সঙ্গে মিনেসোটার প্রত্যন্ত ফার্মে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা বসবাস শুরু করেন। সংক্রমণ এড়াতে প্রত্যন্ত জায়গা বেছে নিয়েছিলেন তারা।

দুই বোন অ্যাবিগেইল লরেন হেনসেল এবং ব্রিটনি লি হেনসেলের বয়স এখন ২৯ বছর। সমাজের সঙ্গে সংগ্রাম করে, নিজেদের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন দু’জনেই। অ্যাবি গণিতে এবং ব্রিটনি ইংরেজিতে স্নাতক করেছেন। দু’জনেরই আলাদা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এই মুহূর্তে দু’জনেই স্কুলের শিক্ষক।

জানা গেছে, দু’জনের শরীর এক হলেও মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ আলাদা। সে কারণে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চিন্তাভাবনাও আলাদা। এমনকি খাবারের প্রতি ভালবাসাও আলাদা। হৃৎপিণ্ড, পিত্তাশয় এবং পাকস্থলী আলাদা। খিদেও আলাদা আলাদা সময়ে লাগে তাদের।

বাকি সমস্ত কিছুই এক। যেমন অন্ত্র একটাই, একটাই লিভার, দুটো কিডনি-ডিম্বাশয়। আর তিনটে ফুসফুস রয়েছে তাদের। ফলে বেশিরভাগ জৈবিক ক্রিয়াগুলো তাদের একই সঙ্গে ঘটে।

কিন্তু একটাই শরীর নিয়ে দু’জন আলাদা মানুষের পরিচয় কিভাবে বহন করলেন তারা? দু’জন আলাদা ব্রেন কিভাবে দুটো হাত এবং পা-কে আলাদা আলাদা সিগন্যাল পাঠায়? আর কিভাবে সেই আলাদা সিগন্যালে সাড়া দেয় এই দুই হাত-পা, তা আজও গবেষকদের কাছে বিস্ময়ের।

আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, একজনের জ্বর হলেই যে অন্যজনের জ্বর হবে তা কিন্তু নয়। দু’জনের শরীর এক হলেও অসুখ-বিসুখ বেশির ভাগ সময়ই একসঙ্গে হয় না!

তবে অ্যাবি আর ব্রিটনি এ নিয়ে ভাবেন না। নিজেদের মধ্যে তাদের দারুণ বোঝাপড়া। দিনরাত তারা একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি চালিয়ে যান।

জোড়া বোন হওয়ার অসুবিধা তো অনেক রয়েছে, তবে সেসবের মধ্যে তাদের একটাই আফসোস। যে স্কুলে তারা পড়ান, সেখানে তাদের একজন হিসাবেই গণ্য করা হয়। তাই বেতনও একজনেরই দেওয়া হয়। অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম করেন তারা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।