১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার
৮ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

ফুলছড়ির চরাঞ্চলে চীনা বাদামের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

ফুলছড়ির চরাঞ্চলে চীনা বাদামের বাম্পার ফলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ  গাইবান্ধার চরাঞ্চলে চীনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় চরাঞ্চলের ধু-ধু বালুময় জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে চীনা বাদামের ক্ষেত। অন্য ফসলের চেয়ে বাদাম চাষে খরচ কম এবং অধিক লাভ পাওয়ায় দিন-দিন আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।

গাইবান্ধা জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র- যমুনা বেষ্টিত ২৮টি ইউনিয়নের ১৬৫টি চরে বন্যা পরবর্তী বালুময় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। চীনা বাদাম রোপণের পর অন্য ফসলের মতো সেচ, পরিচর্যার ও রাসায়নিক সারের খুব বেশি প্রয়োজন না
হওয়ায় চীনা বাদাম চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা।

ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল নদের বুকজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় চর। আর এসব বালুচরে মাইলের পর মাইল বাদামের জমি। সাদা বালুর জমিতে সবুজ আর সবুজে ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। প্রতিটি লতানো বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালি রঙের বাদাম। এ যেন
বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন।

উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা, কাবিলপুর, রতনপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি, রসুলপুর, হাড়ডাঙ্গা, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী, চন্দনস্বর, কাউয়াবাঁধা, চিকিরপটল, তালতলা, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী, হরিচন্ডি, বুলবুলির চর, ফুলছড়ি ইউনিয়নের খোলাবাড়ী, বাজে ফুলছড়ি, টেংরাকান্দি, দেলুয়াবাড়ী, গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা, গলনাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চরের জমিতে এবার ব্যাপকভাবে বাদামের চাষ করা হয়েছে। বাদাম পরিচর্যায় খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। এসব চরে বাসন্তী, সিংগা সাইস্টোর, বারী চিনাবাদাম-৫, বারী চিনাবাদাম-৬ সহ স্থানীয় জাতের বাদামের আবাদই বেশি করা হয়েছে। কৃষাণি ও কিশোর-কিশোরীরা গাছ থেকে বাদাম ছাড়িয়ে স্তুপ করে রাখছেন।

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা জমি থেকে বাদাম হাটে নিয়ে বিক্রি করছেন। বাদাম চাষ করে চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। দুর হয়েছে নিত্য অভাব অনটন। তাদের মলিন মুখে ফুটেছে হাসি। চরের বালুতে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে বাদাম উৎপাদন হয় ২০-২৪ মণ। প্রতিমণ কাঁচা বাদামের বাজার মূল্য ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের বিঘা প্রতি লাভ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

উপজেলার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, বালু মাটিতে অন্য কোন ফসল উৎপাদন করে বাদামের সমপরিমাণ লাভ হয় না। অন্য ফসল উৎপাদনের চেয়ে বাদাম উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চরের সবাই বাদামের চাষ করে। বাদাম রোপনের পর অন্য ফসলের মতো কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। নেই রাসায়নিক সারের ব্যবহার।

বীজ রোপণ আর পরিপক্ক বাদাম উঠানোর লেবার খরচ ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে। একটি ফসলেই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী চরের কৃষক আবু সাঈদ জানান, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে বাদাম আবাদ করেছিলেন। এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছয় বিঘা জমিতে বাদাম তুলে পেয়েছেন ১শ৩০ মণ। অন্যান্য ফসল আবাদের চেয়ে বাদাম আবাদে পরিশ্রম ও খরচ অনেক কম পড়ে। বুলবুলির চরের কৃষক খবির মন্ডল, সামাদ খাঁ, খোলাবাড়ী গ্রামের শাহা আলমসহ অনেকে বলেন, এ বছর তারা বাদাম আবাদ করে ভালো ফলন ও দাম পেয়েছেন। গুনগত মান ভাল হওয়ায় এ অঞ্চলের বাদামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদাম ব্যবসায়ীরা বাদাম কিনতে আসেন।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের চরে এ বছর বাদামের আবাদ ও উৎপাদন ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের দাঁনা পুষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বাদাম গাছে তেমন কোন রোগ-বালাইয়ের আক্রমন ছিল না। ফলে কৃষকেরা বাদামের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। পাশাপশি অল্প খরচে, বালুময় জমিতে বাদাম চাষ হওয়ায় অন্যান্য আয়মূলক ফসলের মতো কৃষির সার্বিক উন্নয়নে চরাঞ্চলের চীনা বাদাম যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি জানান।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।