৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, সোমবার
১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

আশুগঞ্জে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক চাতাল মিল!

প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ণ , মার্চ ৭, ২০২০

আশুগঞ্জে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক চাতাল মিল!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ শ্রমিক সংকট সহ নানান কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চাতাল মিল গুলো। মিল মালিকরা বিপুল পরিমান অর্থ এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে বর্তমানে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তারা বলছে শ্রমিকের সংকট বর্তমানে তীব্র হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারনে পথে বসতে হচ্ছে মিল মালিকদের। তার উপরে রয়েছে চড়া সুদে ব্যাংক ঋনের বোঝা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুগঞ্জ উপজেলার আলম নগর,সোনারামপুর,বাহাদুরপুর,কামাউড়া, খড়িয়ালা এলাকাসহ অধিকাংশ চাতাল বন্ধ রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চাতাল কল মালিক সমিতি তথ্য অনুযায়ী জেলায় ৫ শতাধীক এর উপরে চাতাল কল রয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান বর্তমানে তিনশ’র কাছাকাছি নেমে এসেছে। শ্রমিক সংকট সহ নানান কারনে মিল চালাতে পারছেন মালিকরা  মালিকদের দাবি ব্যাংক থেকে চড়া সুদে মোটা অংকের লোন ব্যবসায় বিনোয়োগ করা হলেও বর্তমানে তা পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে।

এছাড়াও শ্রমিকের সংকট বর্তমানে তীব্র হয়ে দাড়িয়েছে। বাজারে দ্রব্যমূল্য বেশী হওয়ায় এবং চাতাল শ্রমিকদের মজুরী কম হওয়ায় ভিন্ন পেশা খুজছেন তারা। যার কারনে বর্তমানে মিলে শ্রমিকের সংখ্যা কমে আসছে  বিভিন্ন মিল মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারনে পথে বসতে হচ্ছে মালিকদের।

তবে শ্রমিকরা বলছে কাজের বিনিময়ে তাদের যে মজুরী প্রদান করা হয় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন তাই মজুরি বাড়ানোর দাবী করেন তারা। এছাড়া বর্তমানে ধান ও চালের সাথে বাজারের মূল্য মিল নেই। ব্যবসায়ীরা বলছে বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য বেশি। আর চালের মূল্য কম। ধান প্রক্রিয়াজাত করণ শেষে চাল রুপান্তর করা পযর্ন্ত লোকসান গুণতে হয় বলে দাবি মিল মালিকদের।

চাতালকল ব্যবসায়ীরা বলেন,বর্তমানে ব্যবসায় যেভাবে লোকসান হচ্ছে এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না  ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় এরই মধ্যে আশুগঞ্জে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন।

চাতাল কল মালিক সমিতি সাবেক সভাপতি, মো. জিয়াউল করিম খান সাজু জানান শ্রমিক সংকট, চড়া সুদে ব্যাংক লোন ও বাজারে ধানের ক্রয় মূল্য থেকে চালের বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় দিনে দিনে লোকসান বেড়ে যাওয়ার কারনে পুজির অভাবে মিল বন্ধ করে দিয়েছে অনেক মিল মালিকরা। অচিরেই কম সুদে তাদের ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।