২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার
৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

নারী দিবস সম্পর্কে ধারনা নেই আশুগঞ্জের বেশিরভাগ শ্রমজীবী নারীর!

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ , মার্চ ৮, ২০২০

নারী দিবস সম্পর্কে ধারনা নেই আশুগঞ্জের বেশিরভাগ শ্রমজীবী নারীর!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস  প্রতিবছরই অনেক আড়ম্বর করে, অনেক ব্যয় করে অনেক আনুষ্ঠানিকতা করে দিনটি পালন করেন শহুরে মানুষেরা। কিন্তু আশুগঞ্জের চাতাল-কন্যারা নারী দিবস কি জানা নেই এই চাতাল কন্যাদের। যেমনটা জানতে পারেন না এ দিনটি পালনের কথাও। প্রতিদিন ঘুম ভেঙেই  চোখ মুছতে মুছতে তাদের দৌড়াতে হয় চাতালে। সেই ফাঁকে স্বামী-সন্তানদের জন্য রান্না-বান্নাও সারতে হয়।

দেশের যে কোনো স্থানের চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এখন চালকল সব চাইতে বেশি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ। রেল, সড়কসহ নৌপথে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। তা ছাড়া এখানে শ্রমমূল্যও অনেক কম। সে কারণে এখানে চালকল ব্যবসার বিকাশ ঘটেছে দ্রুত ।

আশুগঞ্জে চাতাল কন্যারা প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়  পরিশ্রম অনুযায়ী যা বেতন পান তা দিয়ে একবেলা খেয়ে অন্যবেলা না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

এখানে নিয়োজিত আছে প্রায় ২০ সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ চাতাল শ্রমিক। দিন রাত বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে মানুষের অন্ন যোগানো এই শ্রমিকেরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন যুগের পর যুগ। তাদের ঘাম ঝরা পরিশ্রমে নাম মাত্র দিয়ে চাতাল মালিকরা বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়ছেন।

চাতালে নারীদের কাজঃ 

প্রতিটি চাতালে ৪০ জন নারী শ্রমিকের বিপরীতে পুরুষ কাজ করেন ১৫ থেকে ১৬ জন  একজন সর্দারের অধীনে ধান শুকানো, মিলে ভাঙানো, বস্তায় চাল ভরা-এ সবই নারী শ্রমিকদের প্রধান কাজ। চাতালে ধান আনা, সেদ্ধ করা পুরুষ-শ্রমিকদের কাজ হলেও এসব কাজে নারীরাও অংশ নেন।

এদিকে আবার সেদ্ধ ধান শুকাতে গড়ে দুই দিন সময় লাগে  আর আবহাওয়া খারাপ থাকলে এতে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। নারী-শ্রমিকরা প্রতি মণ সেদ্ধ ধান প্রক্রিয়াজাত করে সাড়ে ৪ টাকা, আতপ চাল ৬ টাকা এবং বয়লারে কাজ করলে ৭ টাকা হারে পারিশ্রমিক পান।

চাতালকন্যাদের যাপিত জীবন

অর্থনৈতিক দীনতা, রোগ-শোক আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভেতর দিয়েই এ চাতাল-কন্যাদের জীবনযাপন  তাদের ছোট জরাজীর্ণ স্যাঁতসেঁতে ঘরে না পৌঁছে শিক্ষার আলো, না পৌঁছে স্বাস্থ্য-সেবা, না পৌঁছে নাগরিক সুবিধা! পরিবার পরিকল্পনা কী তা জানা নেই।

কঠিন শ্রমে নগণ্য মজুরি

আমাদের শ্রমে বয়লার মালিকরা আরামে থাকলেও ঈদ ছাড়া আমাদের কখনো মাংস জোটে না। এছাড়া গড় মৌসুমে চাতাল মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আগাম শ্রম বিক্রি করতে হয়। একই কাজ করা সত্বেও পুরুষদের তুলনায় আমরা অনেক কম মজুরি পেয়ে থাকি। প্রতিবাদ করেও লাভ হয় না।  দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা আয় দিয়ে সংসার চলে না। যেখানে একজন পুরুষ পায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সেখানে আমরা একই কাজ করে বৈষম্যের শিকার হই। কিন্তু আমাদের কিছুই করার থাকে না।

নারী শ্রমিকদের প্রতি এ বৈষম্যের কথা পুরুষ শ্রমিকরাও স্বীকার করে বলেন, শ্রমের কোনো পার্থক্য না থাকলেও তাদের চেয়ে মহিলারা কম মজুরি পায়। মহিলাদের অন্য কাজের সুযোগ কম বলে মালিকরা এ সুযোগটা নিচ্ছেন।

এই আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনকালে তাদের একটাই শ্রত্যাশা শ্রম, শিক্ষাসহ সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীদের প্রতি এ বৈষম্যের শিগগিরই অবসান ঘটবে। কিন্তু তা কবে হবে তা তারা জানে না!


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।