৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শুক্রবার
১০ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

ব্যতিক্রম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হাসপাতাল!

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ৯, ২০২০

ব্যতিক্রম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হাসপাতাল!

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: এক নব যুগের সূচনা হলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোয়ায় আচ্ছাদিত সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সেবার দ্বার উন্মোচন করলো অত্র হাসপাতালটি। তবে এম্বুলেন্স না থাকায় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় প্রায়ই। তবে অন্যান্য উপজেলা থেকে অনেকটা ব্যতিক্রম এই হাসপাতাল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটাইলে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ২০ কিলোওয়াটের সোলার এসি সিস্টেম ইউনিট। এক সময় বিদ্যুৎ না থাকলে এবং লাইনে কারিগরি ত্রুটি থাকলে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকতো হাসপাতালটি। কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ সেই কষ্ট দূর করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও সোলারের আলোয় আলোকিত থাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে হাসপাতালের রোগীদের আর বিদ্যুতের কষ্ট পোহাতে হয় না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন সূত্রে জানা যায়, ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সোলার এসি সিস্টেম ইউনিটটি স্থাপিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন ইডকলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিমসো ফাউন্ডেশন। যেখানে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে ৬৪টি এবং ব্যাটারি স্থাপন করা হয়েছে পরিমাণমতো। এই ইউনিট থেকে ৫৯টি ফ্যান, ৭১টি লাইট ওটি রুম, ল্যাব রুম ও কম্পিউটার রুমসহ হাসপাতালের সকল কার্যক্রম সোলার ইউনিটের বিদ্যুৎ থেকে পরিচালনা করতে পারবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সোলার এসি সিস্টেম ইউনিটটি স্থাপনের ধারণাটি আমি আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের সচিব মহোদয়ের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম থেকে পেয়ে উৎসাহিত হই। সেই মোতাবেক ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি সোলার সিস্টেম ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা শহিদুল ইসলাম সিএনআইকে বলেন, আগে বিদ্যুৎ না থাকলে রোগের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হতো এখন সে কষ্ট দূর হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. সাইফুর রহমান খান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার এসি সিস্টেম ইউনিট স্থাপনের ফলে হাসপাতালের সকল কাজ দুশ্চিন্তা মুক্তভাবে করা যাচ্ছে। বিশেষ করে হাসাপাতালের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যুতের টেনশনে থাকতে হয় না। নির্বিঘ্নে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে হয় না, যার কারণে জ্বালানি খরচ হয় না এবং বিদ্যুৎও খরচ কম হয়। সরকারকে আমরা সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেল পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার থেকে উৎসাহিত হয়ে আমরা ব্যতিক্রম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও পর্যায়ক্রমে সোলার এসি সিস্টেম ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

সোলার প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান রিমসো ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পুরো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সোলার সিস্টেমের আওতায় আনার ফলে হাসপাতালের রোগীরা অপারেশন কার্যক্রমসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সেবা সহজে নিতে পারছে। এর ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম চালু করলে প্রান্তিক জনগণ এর সুবিধা পাবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।