৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার
১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

অসহায় নারীদের ভরসায় একজন তসলিমা

প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ১০, ২০২০

অসহায় নারীদের ভরসায় একজন তসলিমা

সিএনআই ডেস্ক: নওগাঁর তসলিমা ফেরদৌস। বলা হয়ে থাকে নওগাঁয় অসহায় নারীর আশা ও ভরসার অপর নাম তসলিমা ফেরদৌস। যিনি নিজ উদ্যোগে চালাচ্ছেন ‘বেলা শেষে’ নামে একটি নারীকল্যাণ কেন্দ্র। সেখানে সমাজের অবহেলিত নারীদের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সবধরনের সেবা দিয়ে থাকেন তিনি।

তসলিমা ফেরদৌস একাধারে একজন সমাজসেবী, সংগঠক ও সফল নারী উদ্যোক্তা। অসহায় ও দুস্থ নারীদের জন্য কিছু একটা করার লক্ষ্যেই নিজের পুরোটা জীবন ব্যয় করেছেন তিনি।

তার শুরুটা ছিল গ্রামের লেখাপড়া না জানা ছেলেমেয়ে ও তাদের মায়েদের অক্ষরজ্ঞান ও সেলাই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে। ৪৫ জন ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে একটি শিশু শিক্ষালয় গড়ে তোলেন তসলিমা। পাশাপাশি তার চলতে থাকে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের কাজ। গড়েছে বিভিন্ন সংগঠনও।

১৯৭৭ সালের কথা। তাসলিমা ফেরদৌস তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলেন তসলিমা ফেরদৌসের। থমকে দাঁড়াল তার পড়াশোনা। কিন্তু থেমে যাওয়ার পাত্রী নন তসলিমা। স্বপ্ন পূরণের প্রতিজ্ঞা করলেন। পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী মাহবুব আলমের সহযোগিতায় ভর্তি হলেন স্কুলে। এভাবেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর চাকরির বদলির সুবাদে তিনি যেখানেই গেছেন সেখানেই নিজের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। রাজশাহীতে গিয়ে নারী ও শিশুদের জন্য ‘কম্পিউটার কর্নার’ নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি হাতের কাজ করা পোশাকের শোরুম দেন সংগ্রামী এই সফল নারী উদ্যোক্তা।

আড্ডায় কফি নামে শহরের সবচেয়ে বড় কফি হাউস পরিচালনা করেন দীর্ঘদিন সমবায় ব্যাংকে কাজ করা তসলিমা। সেখানকার লভ্যাংশ থেকেই চলে তার এই নারীকল্যাণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রটি তিনি ২০০৫ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ইলশাবাড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন। ২৫ শতক জমিতে অবস্থিত ৫টি কক্ষের বৃদ্ধাশ্রমটিতে ৩০ জন অসহায় নারী পারিবারিক পরিবেশে বসবাস করছেন। কারও সহযোগিতা ছাড়াই তিনি নিজ উদ্যোগেই পরিচালনা করেন এ নারীকল্যাণ কেন্দ্রটি। গত দুই বছরে এই নারীকল্যাণ কেন্দ্রে সেবা পেয়েছেন অন্তত ৩শ নারী। আর বর্তমানে তার কফি হাউজে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ১৪ জন মানুষ।

তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, বেনামী ও বেওয়ারিশ শিশু সন্তানের জন্য তিনি বেবি বাস্কেট অথবা বেবি বিন প্রতিষ্ঠা করে এসব শিশুদের তিনি লালন-পালন করতে চান।

তিনি তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বেগম রোকেয়া পদক, ‘সেরা উদ্যোক্তা সম্মাননা’, নওগাঁর পুলিশ সুপার কর্তৃক ‘সাদা মনের মানুষ’ উপাধি, ‘রাঁধুনি কীর্তিমতী সম্মাননা-২০১৮’-সহ আরও অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।