বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং

দিনাজপুর ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খাল!

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৬, ২০২০

দিনাজপুর ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খাল!

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা  শাখা যমুনা
নদীটি এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদীর তলদেশে পলি মাটি জমে ভরে উঠেছে,এ কারনে বছরের বেশি ভাগ সময় এ নদীতে পানি থাকে না, নদীর কিছু কিছু যায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে,নদীর বুক চিরে চলছে চাষাবাদ। অথচ এক সময় এই নদীই ছিল এই অঞ্চরের মানুষের জিবন-জীকার একমাত্র উৎস, এখন সে সব শুধুই স্মৃতি।

দিনাজপুর পানি উন্নায়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে,এই শাখা যমুনা নদীটি, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি নামক স্থানের ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে, ফুলবাড়ী উপজেলা হয়ে জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা দিয়ে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ত্রিমোহনি যমুনা ও আত্রই নদীতে মিলিত হয়েছে। আকাঁ-বাকাঁ পথে এই নদীটির দৈর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন’শ কিলোমিটার,এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। নদীটি এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বানিজ্যসহ যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিলো। এই নদীকে কেন্দ্র করেই ততকালিন ইংরেজদের শাস্বন আমলে নদীর তীরে গড়ে উঠে এই শহর। সেই সময় বণিকরা বানিজ্য করতে বড়বড় নৌকা নিয়ে এ এলাকায় পাড়ি জমাতেন। সে সব শুধুই স্মৃতি এক সময় এ নদীর পানি ছিলো এই অঞ্চলের কৃষকের চাষাবাদ ও গৃস্থালী কাজের একমাত্র ভরসা।

এই নদীর মাছ দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাছের চাহিদা পুরোন হতো, জিবীকা নির্বাহ করতো অনেক জেলে স¤প্রদয়েরা। সেই নদীটি এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদীটি দির্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায়, প্রতিবছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদী হারাচ্ছে তার নাব্যতা। নদীর পাড় অবৈধ্যভাবে দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছে দালান কোঠা। ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীকে করছে দুষণ ।

দেখা যায় নদীটিতে বছরে বেশিভাগ সময় পানি থাকেনা,নদীর বুক চিরে এখন বিভিন্ন রকমের ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদন করতে নদীর পাড় কেটে জমি তৈরী করছে অনেকেই, এই কারনে বন্যা আসলেই নদীতে পালির স্তর জমছে। এক সময় কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করলেও,বর্তমানে নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প এর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। নদী পাড়ের বাসীন্দারা বলছেন, নদীতে পানির ধারন ক্ষমতা না থাকায়, বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিপাতে বন্যা হয়ে যায়, নদীর পানি ঘর-বাড়ীতে প্রবেশ করে এতে প্রতি বছর বন্যার সময় ঘরবাড়ী ভেঙ্গে যায়।

নদী পাড়ের কৃষক আবুল কালাম বলেন, নদীতে পানি না থাকায় সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরছ বাড়ছে তাই নদিটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। তিনি আরোও বলেন নদীটি সময় মতো সংস্কার করা না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে এ নদী, বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ,তাই দ্রুত সংস্কার করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সমাজের সচেতন মানুষ।

নদী পাড়ের বাসীন্দা চাঁদপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন এই নদীটির এক সময় প্রান ছিল, সারা বছরে এ নদীতে পানি ছিল এই পানি দিয়ে ঘর- গৃস্থারীর কাজ ও জমির সেচ কাজ চলতো। এখন নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প বসিয়ে ইরি বোরো জমিতে পানি সেচ দিতে হচ্ছে, এতেকরে পরিবেশ বিপর্য্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে,দিনদিন পানির লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে,ইরি বোরো মৌসুমে সেচপাম্প বসিয়ে জমিতে পানি সরবারহ করার কারনে অনেক টিউবয়েলে ঠিকমত পানি উঠেনা তাই ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। একই কথা বলেন চাদপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ইউনুছ আলী।

নদী বাচাঁও দেশ বাচাঁও আন্দোলনের নেতা পল্লী চিকিৎসক ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, আমাদের প্রকৃতি ও বিজ-বৈচিত্র সবই নির্ভর করে নদীর উপর, তাই নদীকে বাচাঁতে হবে,এই জন্য এই নদীটিকে দ্রুত স্বংস্কার করার করতে হবে। এদিকে উপজেলা মৎস অধিদপ্তর জানিয়েছে,নদীতে পানি না থাকায় দেশি প্রজাতির মাছের বংশ হারিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা: মাজনুন্নাহার মায়া বলেন, সাধু পানিতে ২৬৫ প্রজাতির মাছ থাকে, এর মধ্যে এখন সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০১ প্রকার মাছের বংশ রয়েছে, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার দেশী প্রজাতির মাছ আর দেখা যায়না। বাকি মাছ গুলো চাষের মাধ্যমে বংশ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন নদীতে সারা বছর পানি
না থাকায় দেশি প্রজাতীর মাছের বংশ ধিরে ধিরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন,নদীর পানির বহমান রক্ষা করার জন্য সরকার কাজ শুরু করে করেছে,নদী দখল মুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন এই প্রকল্পটির কাজ এই উপজেলাতেও শুরু হবে, প্রকল্প এলে, এই শাখা যমুনা নদীটিও সংস্কার করা হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।