৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং, সোমবার
৬ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

পাবনার চাটমোহরের কফি হাউজ!

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৮, ২০২০

পাবনার চাটমোহরের কফি হাউজ!

পাবনা প্রতিনিধি: ৫০ এর দশকে চাটমোহর পুরতান বাজার (থানা গেটে) একটি চায়ের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন আঁগশোয়াইল গ্রামের প্রয়াত আব্দুল লথিফ সরকার। যার বর্তমান অবস্হান চাটমোহর পুরাতন বাজার কড়ই তলায়। প্রতিদিনই খুব সকাল থেকে রাত ৯টা অবধি চাটমোহরের বিভিন্ন দলের নেতা কর্মী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, নিত্যদিনের গৃহস্থালী ক্রেতা ও বিক্রেতা, থানায় আসা বাদী ও বিবাদী, বীজ-সার-কীটনাশক কিনতে আসা সাধারণ কৃষক সবার আড্ডার এক জায়গা এই চায়ের দোকান। তাই এর নাম দিয়েছি ”চাটমোহর কফি হাউজ”।

বয়োজোষ্ঠ্যদের কাছে শোনা শুরুতে এ দোকানটি চলতো মুলত চাটমোহর থানা কেন্দ্রীক। বেচাকেনা যে খুব একটা বেশি হতো তা নয়। স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত থানা গেটে থাকলেও স্বাধীনতার পর তা চলে আসে কড়ইতলায় বর্তমানে যেখানে অবস্হান আছে। চায়ের দোকানটি এখন প্রয়াত আব্দুল লথিব সরকারের চতুর্থ সন্তান মো: আব্দুল হান্নান চুন্নুর মালিকানায় আছে। শুরুতে আব্দুল লথিব সরকার ও উনার বড় ছেলে আব্দুল কাদের বাচচু শুরু করলেও স্বাধীনতার পর উনার সকল ছেলেরাই এই দোকানের উপর নির্ভরশীল হন। পরবর্তীতে উনার বড় ছেলে নিজেই আর একটি চায়ের দোকান খুলেন চাটমোহর বাসস্ট্যান্ডের অদুরে এবং লথিফ সরকার নিজে অসুস্থ হলে আব্দুল হান্নানসহ তার আর সব ভাই মিলে এ দোকান চালাতেন।

বাবার মৃত্যুর পর ভাইদের বিয়ে হলে, যে যার মত দোকান এবং ভিন্ন পেশা বেছে নিলে ছাব্বিস বছর যাবত আব্দুল হান্নান দোকনটি পরিচালনা করে আসছেন। দোকনটি বাজারের মধ্যে এবং বিশাল এক কড়ই গাছের নিচে হওয়ায় অসংখ্য মানুষের আনা গোনা এখানে। সকল দলের, মতের, পেশার মানুষের কথা মাথায় রেখে স্হানীয় ও
জাতীয় বেশ কয়টি পত্রিকা থাকে এই চায়ের টেবিলে। সব দলের ও পেশার মানুষের পত্রিকা পাঠের পাশাপাশি চায়ের সাথে চলে দারুন আড্ডা।

কয়েক প্রকার চা, বিস্কুট, কলা, পাউরুটি, কেক, পান, সিগারেট পাওয়া যায় এখানে। বর্তমানে অনেক সংকট পাড়ি দিয়ে মোটামুটি বেশ ভাল চলছে দোকানটি। এই দোকানের উপর নির্ভর করে নিজে কিছুটা হলেও সচ্ছল ও সাবলম্বী হয়েছেন আব্দুল হান্নান। নিজের টিন সেডের একটি বাড়ি করেছেন এবং বড় ছেলেকে এসএসসি পাশ
করিয়েছেন। তিন ছেলে ও স্বামী-স্ত্রী মিলে পাঁচজনের এখন সুখের সংসার।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।