৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, সোমবার
১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

কৃষি জমি রক্ষায় বালুমহাল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৮, ২০২০

কৃষি জমি রক্ষায় বালুমহাল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি:  দিনাজপুর সদরের ঘুঘুডাঙ্গায় পরিবেশ, কৃষক ও কৃষি জমি রক্ষায় বালুমহাল বন্ধের
দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রামবাসি । আজ বুধবার দুপুরে দিনাজপুরের সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামবাসী ঘন্টা ব্যাপি এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করেন । ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের শতাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

মানববন্ধনে গ্রামবাসী দাবি জানান, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বুজরুক বসন্তপুর গ্রামের শেষ প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পূণর্ভবা নদীর উপর বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এখানকার পরিবেশ, কৃষক, কৃষি জমি, আম-লিচু, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা হুমকির মুখে পড়েছে। বালু মহালটি বিরল উপজেলায় অবস্থিত হলেও বালু মহালের কার্যক্রম চলছে সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের কৃষকদের জমির উপর দিয়ে।

এতে করে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার কৃষি জমি ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ ট্রাক্টরের উৎপাতে কাঁচা রাস্তার ধুলাবালি কৃষি জমিতে পরার ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে। শুধু ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় কৃষক ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই বালু মহাল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রভাবশালী একটি মহল উল্টো স্থানীয় কৃষক ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু তোলার কাজ
করছে বলে জানান ওই এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিরল উপজেলার বুজরুক বসন্তপুর এলাকায় পুণর্ভবা নদীর উপর বালু তোলা হচ্ছে। প্রায় ৭ থেকে ৮০০ মিটার রাস্তাবিহীন অন্যের কৃষি জমির উপর দিয়ে বালুর ট্রাক্টর চলাচল করছে। ওইসব জমিতে কেউ লিচু, আম বাগান, করলা, বেগুন, ভুট্টা, ধান, শাক, আলু, মরিচ ও পেয়াজের চাষাবাদ করেছে। ট্রাক্টরের চলাচলে রাস্তার দু’ধারের ধুলাবালি জমিতে পড়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বিরল উপজেলায় বালু মহালটির অবস্থান হলেও পুরো কার্যক্রম চলছে সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা এলাকায়। প্রতি ট্রলি বালু ২০০ টাকা দরে প্রতিদিন সেখান থেকে প্রায় দেড় থেকে ২০০ টাক্টর যাতায়াত করে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক অনেককেই দেখা যায় এসব ট্রাক্টর চালাতে। এতে ঘটছে প্রায় দুর্ঘটনা।

ঘুঘুডাঙ্গা এলাকার মো. ইসমাইল হোসেন (৬০) বলেন, ‘আমার কিছুদিন আগে ট্রলি দিয়ে দুটো খাসি ছাগল মারা গেছে। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, বালু উত্তোলন করে ট্রলিতে নিয়ে যাওয়ার ফলে আশপাশের যত ফসলি জমি আছে সেগুলোর প্রায় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফুল ও ফল আসার আগেই ধুলার কারণে সেগুলো বেড়ে উঠতে পারছে না।’

দক্ষিণ ঘুঘুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানের প্রায় শিশু এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। প্রায় ট্রাক্টরের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, ‘ট্রলির চালক গুলো এদিক দিয়ে যাওয়া আসা করার সময় আমাদের সাথে বিভিন্ন ধরণের ইফটিজিং করে। আমাদের দেখলে উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমরাও চাই এখান থেকে বালু মহাল বন্ধ করে কিংবা অন্য রাস্তা দিয়ে ট্রলি গুলো চলাচল করুক।’

বালু মহালে সাংবাদিকদের আগমনের কথা শুনে বালু মহাল ইজারাদার সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে সেখানে কর্মরত শ্রমিক মো.আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এই বালু মহালটি ইজারা নেওয়া। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা অবৈধ কিন্তু আমরা এখানে শ্রমিকের কাজ করি। আমাদের কিছুই করার নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাহেল মো. মাহফুজুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে ওই এলাকার কয়েকজন এসেছিলেন। সরকারিভাবে ওই বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়। তবে কারো ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক কেউ বালু নিতে পারবে না। এবছর ওই বালু মহালের সিডিউল হয়েছে। এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি।

তবে সরকারি রাস্তা ব্যতিত যদি বালু নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কৃষকদের কেউ হুমকি ধামকি দেয় তাহলে সেটা ১৪৪ ধারায় মামলা হবে। আমরা কৃষকদের বলেছি, এরকম কোন ঘটনা ঘটলে আইনের আশ্রয় নিতে। আর অবশ্যই সরকারি রাস্তা থাকলে সেদিক দিয়ে ট্রলি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।’


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।