৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং, সোমবার
৬ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

দুই বছর পর কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন!

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ২১, ২০২০

দুই বছর পর কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন!

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি ইউনিয়নে একটি হত্যা মামলার তদন্তের জন্য ১ বছর ৯ মাস পর এক শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সরদার কান্দি কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। শাহীন মিয়া (১২) সরদার কান্দির বাসিন্দা মৃত আজিজুল হক সরদারের ছেলে।

এ সময় ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তানভীর আল নাসীফ, পিবিআই নরসিংদী জেলার ইন্সপেক্টর জনাব মনিরুজ্জামান ও সখিপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশটির ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় কবর খুড়ে হাড় ছাড়া অন্য কিছুই পাওয়া যায়নি।মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে ও নিহত শাহীনের মা ফুলবানুর সাথে আলাপ করে জানাগেছে, দীর্ঘদিন থেকে শাহীনের পরিবার নরসিংদী জেলার মাধবধী এলাকায় টেক্সটাইল মিলে চাকুরী করে আসছিল। পাশ্ববর্তী মোল্যা কান্দির বাসিন্দা জলিল মোল্যার ছেলে হারুন মোল্যার মাধ্যমে তারা সেখানে চাকুরি নেয়। চাকুরীর এক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হারুন মোল্যার সাথে শাহীনের পরিবারের দ্বন্ধ দেখা দেয়। শাহীনের মায়ের অভিযোগ, এ সময় হারুন মোল্যা শাহীনের বাবাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল। আর এ হুমকির একসপ্তাহ পর গত ০৯/০৭/২০১৮ তারিখে হারুন মোল্যার ভাড়া বাসার ৪ তলায় ঝুলন্ত অবস্থায় শাহীনের লাশ পাওয়া যায়।

কিন্তু রহস্যজনক কারনে, ঐ সময় কোনপ্রকার ময়না তদন্ত ছাড়াই শাহীনের লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছিল। আর মামলা দায়ের করা হয় ০১/০৮/২০১৮ তারিখে অথাৎ ঘটনার ১মাস পর। ঐ সময় শাহীনের বাবা আজিজুল হক সরদার বাদী হয়ে চরকুমারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন মোল্যা, শাহাজালাল মোল্যা, ছুনু হাওলাদার, হানিফ মোল্যা এবং ডিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা পিয়াল মাহমুদকে আসামী করে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব আসামীরাও ঐ টেক্সটাইল মিলে চাকুরী করতো বলে জানাগেছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআইতে তদন্তাধীন রয়েছে।এদিকে মামলা দায়েরের পর পরেই শাহীনের বাবা আজিজুল হক সরদারের মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি পুত্র হারানোর শোকেই তার মৃত্যু হয়েছে।

শাহীনের মা ফুলবানু বলেন, হারুন মোল্যা ও অন্যান্যরা আমার ছেলেকে হত্যা করার পর কোন চিকিৎসা দেয়নি। হাসপাতালে নেয়ার নাম করে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করে। লাশ ময়না তদন্ত করতে বললেও আমরা গরীব বলে কেউ কথা শোনে নি। এর এক মাস পর হত্যার ঘটনা জানতে পেরে আমরা নরসিংদীর মাধবদী থানায় গেলে তারা মামলা নেয় নি। পরে আমার স্বামী কোর্টে মামলা করেছিল।

আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।কিন্তু মামলার প্রধান আসামী হারুন মোল্যা বলেন, ঐ সময় ৪ তলা থেকে শাহীনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করার পর তার মা বাবা ও স্বজনরা পুলিশ কে জানায় নি। পরে আমার বিভিন্ন লোকের উস্কানিতে ঘটনার একমাস পর আদালতে মামলা করে তারা। আমরা ঘটনার কিছুই জানি না। পরিচিত হিসেবে তাদের সহযোগীতা করেছি। এখন আমাদেরকেই আসামী করা হয়েছে।

এছাড়া তারা আপোষও করেছিল।এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই (নরসিংদী) এর ইন্সপেক্টর জনাব মনিরুজ্জামান বলেন, এ মামলাটির তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে শাহীনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারবো।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।