৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, সোমবার
১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

জীবননগর চ্যাংখালী সড়কের ধুলায় অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ , মার্চ ২১, ২০২০

জীবননগর চ্যাংখালী সড়কের ধুলায় অতিষ্ঠ জনজীবন
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ  চুয়াডাঙ্গার  জীবননগর চ্যাংখালী সড়ক নির্মানের কাজে  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নামে নানা অনিয়ম টালবাহানার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ।  যেমন রাস্তার বেহাল দশা তেমনি জনদূর্ভোগ চরমসীমায়। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তদারকির অভাবে কাজের এমন ধীরগতি হচ্ছে বলে জানান । তাদের স্বেচ্ছাচারী ভুমিকার কারণে জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে।
কোনরকম নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মান করা হচ্ছে রাস্তাটি। নিন্মমানের বালি ও খোয়া ব্যবহারের কারনে কোনরকম যান চলাচলেই ভীষন ধুলার সৃষ্টি  হচ্ছে। যেন উন্নয়নের নামে জীবননগর শহর ধুলাবালির শহরে পরিনত হয়েছে। ধুলার মধ্য দিয়ে এ  মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। এতে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। এছাড়া প্রতিনিয়তই সড়কে যানবাহন বিকল হওয়াসহ ঘটছে দুর্ঘটনা।
ইসলামপুর মোড় হতে দৌলতগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে বিগত  ৬ মাস ধরে ।  পরবর্তীতে রাস্তা সংস্কারের কাজ থমকে যাবার কারনে   পথযাত্রীদের চরম দূর্ভোগে চলাচল করতে হয়। বর্তমানে ঔ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচলে সৃষ্ট  ধুলার কারনে নাকমুখ বন্ধ  করে পথচলতে হয় সাধারণ পথচারী এবং স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের। যার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীরা। জনদূর্ভোগ যেন লাগামহীন হয়ে গেছে।  রাস্তার দু’ধারের বসতবাড়ির চেহারা বেমালুম রাস্তার মতই।
মহাসড়কের আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান আর গাছপালাও এখন ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় ধুলায় কিছুই দেখা যায় না এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক ও যাত্রীদের। এবিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. জুলিয়েট পারউইন জানান
রাস্তায় ভারী যানবাহন চলার ফলে যানবাহনের সৃষ্ট ধুলা বালির কারনে  সাধারণ মানুষের মধ্যে  দেখা দিতে পারে এলার্জি, শ্বাসকষ্ট, এজমা,হাঁচি কাশি সহ বিভিন্ন জটিল কঠিন  রোগ। তাই তিনি সার্বক্ষনিক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
 এছাড়া দেশ এখন করনো ভাইরাস নিয়ে মহা সংকটে আছে। আর এর মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতন হতে বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, উক্ত রাস্তার ধুলাবালির কারণে ঔ এলাকার  শিশুসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এছাড়াও সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা নির্মানকারী  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নাম মাত্র থুতু দিয়ে চিড়া ভিজানোর মত সপ্তাহে একবার পানি দিয়ে জনগনের আই ওয়াস করে মাত্র। কিন্তু হিসাব বরাবর আবার সেই গড়ের মাঠ। যেন রাস্তা উন্নয়নের নামে চলছে জনগনের সাথে চরম তালতামাশা।রাস্তায় এলেই যেন চরমভাবে নাকানিচুাবানী খাচ্ছে এলাকাবাসীসহ পথচারীরা।
জীবননগর এলাকাবাসী  সহ সীমান্ত ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন এই রাস্তা ।  ধুলাবালির কারনে  জনদূর্ভোগ যেন চরম সীমায় পৌছেছে। এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়কেজন সচেতন মানুষ জানান জীবননগরে ইসলামপুর থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘ সময়ধরে সংস্করন কাজ শুরু হলেও  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এর গোঁড়ামির কারণে সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়।
 যার ফলে জনদুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।  এবিষয়ে  ভুক্তভোগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ- মঈন উদ্দীন  জানান ৬ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত রাস্তার মেরামতের কাজ শেষ হয়নি। তবে তিনি অভিযোগ করে জানান সীমান্ত ইউনিয়নের মানুষ অত্যন্ত কষ্টে আছে।  তিনি রাস্তা নির্মানকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করার আহবান জানান। এবং যদিও তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত প্রতিনিয়ত পানি দিলে ধূলাবালির হাত থেকে মানুষ অন্তত শান্তিতে চলাচল করতে পারবে।  এবং সেই সাথে প্রতিদিন এই এলাকার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে  হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার কাজটি শেষ করে মানুষের এই দুর্ভোগের  অবসান হয় করা হয়।
রাস্তা উন্নয়নের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এখবর জানতে যোগাযোগ করা হয় নির্মান কারী প্রতিষ্ঠানের সাথে। রাস্তা নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জাকাউল্লাহ কে বিষয়টি অবগত করা হলেও  তা তিনি আমলে নেননি। এছাড়াও জীবননগর পৌর প্রশাসন কে জানানো হয় বিষয়টি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটা নাকি তাদের দেখার বিষয় না।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জনাব নজরুল ইসলাম সরকারের সাথে কথা বললে তিনি ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। তবে স্থানীয় মানুষের দাবী এ সড়কটি যদি দ্রুত কার্পেটিং করা হয় তাহলে জনমানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।