৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার
১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

গণপরিবহন বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মালিক সমিতি

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৪, ২০২০

গণপরিবহন বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মালিক সমিতি

সিএনআই ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলার অংশ হিসেবে গণপরিবহন ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জেলার পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পরিবহন মালিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, করোনা আতঙ্কে যাত্রী কমে যাওয়ায় পরিবহনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত কারও হাঁচি বা কাশিতে থাকা জীবাণু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ লেগেছে এমন কোনও বস্তু স্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির কয়েক ফুটের মধ্যে থাকা অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই গণপরিবহনে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে গণপরিবহন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ, গণপরিবহনে মানুষের সমাগম বেশি। মানুষের সমাগম থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে।’

তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করেন। তাদের পক্ষে গণপরিবহনে যাতায়াত বন্ধ করা কঠিন। তাই এখনও তাদের গণপরিবহনের ওপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে রাস্তাঘাটে জনসমাগম কমেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ কোথাও ভ্রমণ করছে না। ফলে যাত্রীশূন্যতায় ভুগছে পরিবহনগুলো। ফলে অনেক মালিক তাদের ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। চালক ও হেল্পারদের অনেকে ভয়ে রাস্তায়ও নামছেন না। ফলে পরিবহনের সংখ্যা এমনিতেই অনেক কমে গেছে।

গত ১৪ মার্চ কার্যকরী পরিষদের বৈঠক করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে—করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান-টিবিসি রোড, ফুলবাড়িয়া ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ প্রতিটি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দূরপাল্লার গাড়ির টিকিট কাউন্টারে টিস্যু পেপার এবং হেক্সাজল বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক টার্মিনালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ করতে হবে। তবে পরিবহন মালিকদের এই সিদ্ধান্ত কেউ মানছেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ  বলেন, ‘আমরা করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি টার্মিনালে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও লিফলেট বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। আর এই সেক্টরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যেতে পারি না। সরকার যদি পরিবহন বন্ধ রাখতে বলে আমরা বন্ধ করে দেবো। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ অনেক সচেতন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষ জনসমাগম ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলছে। এরই মধ্যে দেশের সব রুটে যাত্রী নেই বললেই চলে। আর যাত্রী না থাকলে তখন পরিবহন এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি নাগরিকদের চাহিদা এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমরা এখনও পরিবহন বন্ধের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী  বলেন, ‘পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। তবে বিনা প্রয়োজনে যেন কেউ গণপরিবহন ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত টার্মিনালগুলোতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও পরিবহনকে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। দেশের সব মহাসড়কের বাসের যাত্রীদের যাত্রাবিরতি দেওয়া রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।’


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।