৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, সোমবার
১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

৩২ পেরিয়ে ৩৩ বছরে  পা রাখলেন সাকিব আল হাসান

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৪, ২০২০

৩২ পেরিয়ে ৩৩ বছরে  পা রাখলেন সাকিব আল হাসান

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ আজ বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসানের ৩৩ তম জন্মদিন। সাকিব আল হাসানের  মাধ্যমেই পুরোবিশ্ব বাংলাদেশকে নতুন করে চিনেছে। আজ সেই সাকিব  ৩২ পেরিয়ে  পা রাখলেন ৩৩ বছরে। ৩৩তম জন্মদিনে সিএনআই এর পক্ষ থেকে সাকিবের জন্য রইলো জন্মদিনের শুভকামনা।

এবছর সাকিবের জন্মদিনটা কাটছে অন্যসব বছরের তুলনায় একটু অন্যরকম। নিষেধাজ্ঞার কারণে রয়েছেন খেলার বাইরে তারউপর আবার করোনাভাইরাসের কারণে এখন তিনি নিজেই রয়েছেন সেলফ কোয়ারেন্টাইনে। তাই আজ  তার জন্মদিনটা কাটাতে হচ্ছে হোমকোয়ারেন্টাইনে।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। তার পিতা মাশরুর রেজা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং মাতা শিরিন শারমিন একজন গৃহিণী। সাকিবের বাবা ছিলেন ফুটবলের বড়ভক্ত। তিনি নিজেও খেলতেন বিভিন্ন লীগে। কিন্তু বাবার পছন্দের বিপরীতে ছেলে হলেন ক্রিকেটার। গ্রামাঞ্চলের ক্রিকেট খেলতে গিয়েই তিনি চোখে পড়ে যান এক আম্পায়ারের। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় মাগুরার ইসলামপুর পাড়া ক্লাবে। সেই ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে সাকিব প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেন। প্রথম বলেই তুলে নিয়েছিলেন উইকেট। প্রকৃত ক্রিকেট জীবনের শুরু সেই বল থেকেই।

মাগুরা মাতিয়ে সাকিব বিকেএসপিতে এসে ভর্তি হন ৬ মাসের কোর্স করার জন্য। খুব দ্রুতই নিজেকে পরিচিত করে তোলেন সাকিব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সুযোগ পান অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার। এছাড়া জাতীয় লিগে খেলার জন্য তালিকাভূক্ত হন খুলনা বিভাগীয় দলে।

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে সাকিব প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। একই সিরিজে ওয়ানডে অভিষেক হয় ফরহাদ রেজা এবং মুশফিকুর রহীমের। সেই সিরিজেই হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিবের।

২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন সাকিব।   ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডার হন তিনি। যা ক্রিকেট বিশ্বে একমাত্র ঘটনা।

ওয়ানডে অভিষেকের পরের বছরই ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে টেস্টে অভিষেক হয় সাকিবের। ২০০৬ সালে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০০৯ সালেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাশরাফির ইনজুরির কারণে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একইভাবে দায়িত্ব পান তিনি। এরপর তার নেতৃত্বেই ২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ।

এখন পর্যন্ত ৫৬ টেস্ট ১০৫ ইনিংসে ব্যাট করে সাকিব ৩৯.৪০ গড়ে করেছেন ৩৮৬২ রান। রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২৪টি হাফ সেঞ্চুরি। সাদা পোশাকে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭ রানের। ৯৫ ইনিংসে বল করে পেয়েছেন ২১০টি উইকেট। বোলিং গড় ৩১.১২ ও ইকোনোমি ৩.০১ করে। ১০ উইকেট পেয়েছেন দু’বার। ৫ উইকেট পেয়েছেন ১৮বার। এক ম্যাচে তার সেরা বোলিং ফিগার ১২৪ রানে ১০ উইকেট। আর এক ইনিংসে ৩৬ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট।

ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৯৪ বার। ৩৭.৮৬ গড়ে করেছেন ৬৩২৩ রান। রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৭টি হাফসেঞ্চুরি। এক ম্যাচে তার সেরা ১৩৪ (অপরাজিত)। আর ২০৩ ইনিংসে বল করে ৩০.২১ গড় ও ৪.৪৮ ইকোনোমিতে নিয়েছেন ২৬০ উইকেট। ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন দু’বার। সেরা বোলিং ফিগার ২৯ রানে ৫ উইকেট।

৭৬টি টি-টোয়েন্টিতে ১২৩.৭৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৫৬৭ রান। রয়েছে ৯টি হাফসেঞ্চুরি। আর ৭৫ ইনিংসে বল ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৯২ উইকেট। ইকোনোমি ৬.৮১। সেরা বোলিং ফিগার ২০ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট।

সব কিছু  ভালোই চলছিলো। সাকিব তার অলরাউন্ডার পারফরমেন্সে  দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে যাচ্ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু   গত বছরের অক্টোবেরর শেষে বড় এক ধাক্কা খেলেন পুরো দেশ এবং তিনি নিজেও। জুয়াড়িদের প্রস্তাব আকসুকে না জানানোর কারণে সাকিব আল হাসানকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যদিও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়ই এক বছর স্থগিতের কথা জানিয়ে দেয়া হয় আইসিসির পক্ষ থেকে। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও মাঠে ফিরতে পারবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আবার ক্রিকেট মাঠে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন, আর বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে যাবেন  এক অনন্য উচ্চতায়।  সাকিবের জন্মদিনে এই একটাই চাওয়া সাকিবের ভক্ত, অনুসারী এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের।

 

 

 


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।