৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শুক্রবার
৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

করোনাভাইরাস: নিম্নোক্ত বিষয়াদি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৫, ২০২০

করোনাভাইরাস: নিম্নোক্ত বিষয়াদি পুনর্বিবেচনা করা  জরুরি
আতাউল করিম আরবিঃ বিশ্বের অন্য সকল নাগরিকের মতো আমরাও করোনা নিয়ে সবাই আতংকিত।  সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনার প্রেক্ষিতে করোনা নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা বিদ্যমান। কিন্তুু বর্তমান সময়ে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষ নানান ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তবে মন্তব্য করার পূর্বে আমাদের সকলকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, করোনা একটি বিশ্ব সংকট। তাই এই ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে আমি মনে করি করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়াদি পুনর্বিবেচনা করা  জরুরি-
১। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আজ অবধি প্রবাসীগণ নির্বিঘ্নে আমাদের দেশে প্রবেশ করছেন এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছেন।
২। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে একজন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয় উপজেলা পর্যায়ে। এই ছড়িয়ে পড়া রোগীরা প্রথম সেবা নিতে আসবেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে কিছু PPE ও সার্জিক্যাল গাউনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।কিন্তুু  PPE  স্বল্পতার কারণে কোন উপসর্গ বিদ্যমান এমন রোগীদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ফাস্ট কন্ট্রাক্টে আসতে হয়।  তাই দায়িত্বরত ডাক্তারগন করোনা ভাইরাস পজেটিভ এমন রোগীর সংস্পর্শে আসার ফলে নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হসপিটালের বেশ কয়েকজন ডাক্তারগণকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ (ক) ঢাকা মেডিকেল হসপিটালের চারজন ডাক্তার ( খ) ডেলটা মেডিকেলের আইসিইউ এর সকল ডাক্তারগন (গ) আনোয়ার খান মডার্ন হসপিটালের আইসিইউ এর সকল ডাক্তারগন (ঘ)  কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজের ১৪ জন ডাক্তার সহ আরো অনেকে। কিন্তুু চিন্তার বিষয় হলো এইসব ডাক্তারগণ সেসময়ে যে সব সাধারণ অন্যান্য রোগীদের  সেবা প্রদান করেছেন তাদের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে দিন দিন আক্রান্ত ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এই আক্রান্ত ডাক্তারগনের মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের মাঝে এই ভাইরাস আরো ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়বে।
৩। আমরা জানি সরকার ইতোমধ্যে করোনা লক্ষণযুক্ত রোগীদের কোয়ারেনটাইন করার লক্ষ্যে করোনা ইউনিট চালু করেছেন। কিন্তুু এই সাসপেক্টেড রোগীদের টেস্টের পূর্বে কোয়ারেন্টাইন করার জন্য আলাদা আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় করোনাভাইরাস পজেটিভ নয় এমন রোগীও এই ভাইরাসে অন্যদের দ্বারা সংক্রমিত হবেন। শুধুমাত্র টেস্ট পজিটিভ রোগীদের পরবর্তীতে বিশেষায়িত হাসপাতালে একসাথে রাখা যেতে পারে।
৪। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগ সীমিত রেখে শুধুমাত্র ইমারজেন্সিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত প্রটেকশনের (PPE) ব্যবস্থা রেখে রোগীদের বাছাই করা যেতে পারে।এতে করে রোগটি ছড়ানোর সম্ভাবনা যেমন কমে তেমনি ডাক্তার গন নির্বিঘ্নে সেবা প্রদান করতে পারবেন।
৫। যেহেতু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও PPE  স্বল্পতা রয়েছে সেহেতু সকল ডাক্তারদের একই সাথে ব্যবহার না করে রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি বিন্যাস অত্যন্ত জরুরী।
৬। যেহেতু বর্তমানে টেস্ট কিট এর পর্যাপ্ততা ও ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সে ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায় এ অল্প উপসর্গ বিদ্যমান রোগীদেরও টেস্টের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ফলে যেসব এলাকায় অধিকহারে পজেটিভ রোগী পাওয়া যাবে সেসব অঞ্চলে তৎপরতা বৃদ্ধি করলে দ্রুত রোগীদের সনাক্ত যেমন করা যাবে তেমনি সেসব অঞ্চল লকডাউন করে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যাবে।
পরিশেষে বলতে চাই, ডাক্তারগণ এই যুদ্ধের অগ্রসেনানী। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে ডাক্তার সমাজ কে এই দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক – ডাক্তার আতাউল করিম আরবি।
এমফিল, মাইক্রোবায়োলজি
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ৩৩ তম ব্যাচ।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।